দফা এক দাবি এক জ্ঞানেশের পদত্যাগ

৩৬৫ দিন। একটাই অ্যাজেন্ডা, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ কর – এস আই আরের নামে ভোট চুরি ইস্যু নিয়ে এবার জাতীয় স্তরে লাগাতার আন্দোলনে নামার ঘোষণা করে দিল বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। অক্টোবর-নভেম্বর এই দু’মাস ধরে ভোট চুরির প্রতিবাদে ছয়টি কর্মসূচির ঘোষণা হল বুধবার। একদিকে যেমন দিল্লিতে এস আই আর প্রত্যাহার ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন চলবে তেমন দেশের আরো চার বড় শহর যেমন কলকাতা, মুম্বাই এর মত শহরেও আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াবে তারা। মোটের ওপর এস আই আর করে বিজেপির মদতে জ্ঞানেশ কুমার কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে, এই ধারণা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাইছে ইন্ডিয়া জোট। বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক পূর্ব ঘোষিত ছিল। বৈঠকে কংগ্রেস, তৃণমূল, আরজেডি সহ ইন্ডিয়া জোটের প্রায় সব দল যোগ দেয়। ২৩ দলের মধ্যে ২০ টি দল বৈঠকে যোগ দেয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে একেবারে প্রথম সারিতে সোনিয়া গান্ধির পাশেই বসতে দেখা যায় মমতাকে। ওই সারিতেই ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। সাংবাদিক বৈঠকে খাড়্গের পরেই বক্তব্য রাখেন মমতা। তৃণণূল নেত্রীর পর বক্তৃতা করেন রাহুল। সেদিক থেকে দেখতে গেলে বাংলায় ক্ষমতা হারালেও ইন্ডিয়া জোটে গুরুত্ব বজায় থাকলো মমতার।
ছয় দফা কর্মসূচি
ইন্ডিয়া জোটের তরফে এআইসিসি প্রেসিডেন্ট‌ খাড়্গে বুধবার আগামী দু মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। খাড়্গে বলেন, কংগ্রেস দল রাহুল গান্ধি ও মমতা‌ সহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বার বার জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভোট চুরি নিয়ে সরব হয়েছেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তখন বিজেপির প্রচারে মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের একাংশ-ও বিষয়টি ধরতে পারেনি। এখন নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আওয়াজ উঠেছে। বিরোধী দল হিসাবে আমাদের দায়িত্ব হল মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করা। সেই লক্ষ্য পূরণেই ছয় দফা কর্মসূচিকে সামনে রেখে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হচ্ছে –
১ সংসদে বিরোধী দলগুলির নেতারা একযোগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যার কথা বলবে। তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে জানানো হবে কি ভাবে নির্বাচন কমিশন এস আই আরের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা তৈরী করে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। এর জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে দায় নিয়ে পদত্যাগ করার দাবিও তারা জানাবেন। সূত্রের খবর, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল রাষ্ট্রপতির সময় চেয়ে চিঠি দেবেন ইন্ডিয়া জোটের তরফে।
২ দেশের পাঁচ বড় শহরে ভোটচুরি ইস্যুতে পাঁচটি বড় জনসভা। পঞ্চম কর্মসূচি, নভেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে মেগা জনসভা। তাতে একসঙ্গে অংশ নেবেন রাহুল গান্ধী-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। খাড়্গে জানান এই কর্মসূচি তৈরীতে রাহুল ও মমতা গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলি মেনে নিয়ে কর্মসূচি তৈরী করা হয়েছে।
৩ আগামী ২ অক্টোবর দেশের প্রতিটি জেলায় ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ ব্যানারে জেলায় জেলায় যৌথ মিছিল। ইন্ডিয়া জোট মনে করছে শুধু বড় শহরে আন্দোলন করে এস আই আর নিয়ে বিজেপিকে চাপে ফেলা যাবে না। দেশের প্রান্তিক অংশের মানুষ বুঝতেই পারছেন না কী ভাবে এস আই আর করে তাদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাচ্ছে কাল দেশের নাগরিকত্ব হারাতে হবে। তাই এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন কতোটা প্রয়োজন সেই ধারণা তৃণমূল স্তরে তৈরী করতে হবে। তাই প্রতিটি জেলায় মিছিল কর্মসূচীর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
৪ আগামী ৬ আগস্ট লোকসভা এবং রাজ্যসভার সব বিরোধী সাংসদের নির্বাচন কমিশন অভিযান। ইন্ডিয়া জোট চায় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের হাতেই তার ইস্তফার দাবি তুলে দিতে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার হিসাবে জ্ঞানেশ‌ কুমার ব্যর্থ তো বটেই ইন্ডিয়া জোটের অভিযোগ জ্ঞানেশ চক্রান্তকারী। তিনি কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়ে বিজেপিকে তুষ্ট করেছেন। তাই তাকে পদত্যাগ করতেই হবে। উনি নিজে পদ ছাড়লে ভালো না হলে ওকে সরাতে হবে।
৫ দেশের পাঁচ বড় শহরে ভোটচুরি ইস্যুতে পাঁচটি বড় জনসভা। ইন্ডিয়া জোট চাইছে দিল্লির পাশাপাশি আরো চারটি বড় শহরে জনসভা করতে। সেখানে মূল দাবি হবে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা। ইন্ডিয়া জোটের নেতারা মনে করছেন, বড় শহরে জনসভা করে জেন জি এবং সমাজের শিক্ষিত ও উচ্চ শিক্ষিত অংশকে আন্দোলনের সঙ্গে জুড়তে। তবে কোথায় কবে এই পাঁচ জনসভা হবে তা জানানো হয়নি। খাড়্গে জানান, নভেম্বরের মধ্যে এই পাঁচ জনসভা হয়ে যাবে।
৬ এস আই আর নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার। সূত্রের খবর, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ঠিক হয়েছে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের সংগঠনকে ব্যবহার করে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপি কী ভাবে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে তা বোঝাবে। এ ব্যাপারে মানুষের মতামত নেবে। কোনো ভাবেই বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার কথা শুনবো না, এটা করা যাবে না। ধৈর্য ধরে প্রত্যেকের কথা শুনতে হবে।
লড়াই শুরু, রাহুল
সোনিয়া, খাড়্গে, মমতার সঙ্গে একসারিতে বসে রাহুল বুধবার ভোট চুরি ইস্যুতে শেষ দেখে ছাড়ার হুঙ্কার দেন। মোদিকে খোঁচা দিয়ে রাহুল বলেন, কেউ কেউ নিজেকে এই দেশ, দেশের গণতন্ত্র সব কিছুর উর্ধ্বে মনে করেন। আমাদের লড়াই তাদের বিরুদ্ধে। যত বড় নামেই হোক না কেন, যত বয়স্ক রাজনীতিক হোক না কেন যারা কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে তাদের জবাব দিহি করতে হবে। আমরা সব বিরোধী রাজনৈতিক দল মিলে তাদের মুখোস খুলে দেব। তাদের শাস্তি পেতে হবে।লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই লড়াই কারোর একার লড়াই নয় সবাইকে এক জোট হয়ে এই লড়াই লড়তে হবে।

Scroll to Top