৩৬৫ দিন। কুর্গের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়, কফি বাগান আর সবুজে ঘেরা পথ। সেই কুর্গেই এমন এক জলপ্রপাত রয়েছে, যেখানে পৌঁছনোর পথটিও গন্তব্যের মতোই আকর্ষণীয়। নাম অ্যাবে জলপ্রপাত। মাদিকেরি শহর থেকে অল্প দূরেই পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে, কফি ও মশলার বাগানের ভিতর দিয়ে এগোতে এগোতে পৌঁছতে হয় এই জলপ্রপাতের কাছে। শহরের ব্যস্ততা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই বদলে যায় চারপাশের দৃশ্য। পাকা পথের দু’পাশে সবুজ, মাথার উপর উঁচু গাছ আর তার মধ্যেই ক্রমশ শোনা যায় জলের শব্দ।
তবে অ্যাবে জলপ্রপাতের গল্প শুধু প্রকৃতির নয়, জড়িয়ে রয়েছে নামের ইতিহাসও। একসময় এই জলপ্রপাতের নাম ছিল ‘জেসি ফলস’। কোডাগু জেলা প্রশাসনের সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, এক ইংরেজ ধর্মযাজকের মেয়ের নাম অনুসারে জলপ্রপাতটির এই নামকরণ হয়েছিল। পরে নাম বদলে হয় অ্যাবে ফলস। সময়ের সঙ্গে পুরনো নামটি হারিয়ে গেলেও সেই ইতিহাস আজও অ্যাবে জলপ্রপাতের পরিচয়ের একটি অংশ।
কর্ণাটকের কোডাগু জেলার অন্যতম পরিচিত এই জলপ্রপাতটির জল প্রায় ৭০ ফুট উপর থেকে পাথরের প্রশস্ত অংশের উপর দিয়ে নেমে আসে। উচ্চতার দিক থেকে খুব বড় না হলেও জলের বিস্তৃত ধারা অ্যাবে জলপ্রপাতকে আলাদা করে তুলেছে। বর্ষার সময়ে জলের পরিমাণ বেড়ে গেলে সেই ধারা আরও প্রবল হয়ে ওঠে। দূর থেকেই শোনা যায় জলের গর্জন। নিচে নামার পথে সবুজের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই সামনে খুলে যায় জলপ্রপাতের দৃশ্য।
অ্যাবে জলপ্রপাতের অন্যতম আকর্ষণ তার ঝুলন্ত সেতু। জলপ্রপাতের বিপরীত দিকে তৈরি এই সেতু থেকে উপর থেকে নেমে আসা জলের পুরো বিস্তার দেখা যায়। ফলে শুধু জলপ্রপাতের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলাই নয়, একটু দূর থেকে তার সম্পূর্ণ রূপটিও দেখা যায়। তবে জলের কাছে নেমে স্নান বা সাঁতার কাটার অনুমতি নেই। নিরাপত্তার কারণেই দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট জায়গা থেকেই জলপ্রপাত দেখতে হয়। এই জলপ্রপাতের সঙ্গে কুর্গের কফি বাগানের সম্পর্কও বেশ ঘনিষ্ঠ। ব্যক্তিগত কফি বাগানের মধ্য দিয়েই অ্যাবে জলপ্রপাতের দিকে যাওয়ার পথ। ফলে জলপ্রপাত দেখতে যাওয়ার সফরটি শুধুই একটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা নয়। কফি বাগানের ভিতর দিয়ে পাহাড়ি পথ ধরে এগিয়ে যাওয়াটাও হয়ে ওঠে ভ্রমণের অংশ। পথের সবুজ আর জলপ্রপাতের শব্দ মিলিয়ে তৈরি হয় আলাদা আবহ।
মাদিকেরি থেকে অ্যাবে জলপ্রপাতের দূরত্ব নিয়ে বিভিন্ন পর্যটন তথ্যসূত্রে সামান্য তারতম্য রয়েছে। কর্ণাটক পর্যটনের তথ্য অনুযায়ী, মাদিকেরি থেকে জলপ্রপাতটি প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে। সড়কপথে সহজেই পৌঁছনো যায়। পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বর্ষার সময়ে জলধারার কাছে সতর্ক থাকা জরুরি।
অ্যাবে জলপ্রপাত দেখতে গেলে একসঙ্গে কুর্গের আরও কয়েকটি জায়গা ঘুরে নেওয়া যায়। কাছেই রয়েছে রাজাস সিট। একটু দূরে দুবারে হাতি শিবির, কাবেরী নিসর্গধাম এবং অন্যান্য দর্শনীয় স্থান। ফলে কুর্গ সফরের তালিকায় অ্যাবে জলপ্রপাতকে আলাদা করে রাখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রকৃতির মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে জলপ্রপাতের কাছে পৌঁছনো, জলের শব্দ শোনা এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরনো ‘জেসি ফলস’-এর গল্প সব মিলিয়ে অ্যাবে জলপ্রপাত কুর্গ ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
কফি বাগান পেরিয়ে কুর্গের অ্যাবে জলপ্রপাত




