৩৬৫ দিন। অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গত জুন মাসে ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬ (পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬) যা গুন্ডাদমন আইন বলেই পরিচিত তা মোটেই ফেরত আসে নি । সেটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এখনো বিবেচনাধীন আছে বলেই এদিন গভীর রাতে নবান্নে তরিঘড়ি ডাকা সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন মুল্যোমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী জানান কেরল ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো তারা সংবিধানের আর্টিকেল ২৫৪(২) ও শিডিউল ৭ অনুসারেই এই বিল তৈরী করা হয়েছে ও তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে । এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান এই বিলের দুটি অংশ যার প্রথম অংশ ইতিমধ্যেই বলবৎ । দ্বিতীয় অংশের পরিবর্তন এর জন্যই এই অনুমোদন ।
বিনা জামিনে আটকে রাখা ও অপরাধীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তর মতো কঠিন ধারার দুরভিসন্ধিমূলক ব্যবহার হতে পারে বলে প্রতিবাদ হয়েছিল। প্রস্তাবিত গুন্ডাদমন বিলের অনুচ্ছেদ বি-তে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি ‘ন্যাশনাল ড্রাগ অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস্ অ্যাক্ট, ১৯৮৫’ অনুসারে শাস্তিযোগ্য কোনও অপরাধ করলে, করার চেষ্টা করলে, অপরাধে মদত দিলে অথবা অপরাধীকে আর্থিক এবং অন্যান্য সুবিধা দিলে তাঁকে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে এই ধরনের ব্যক্তিকে যে ভাবে নিবর্তনমূলক আটক (অর্থাৎ সন্দেহবশে আটক) রাখার কথা বলা হয়েছে, তা ‘প্রিভেনশন অফ ইল্লিসিট ট্রাফিক ইন নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস্ অ্যাক্ট, ১৯৮৮’-এর পরিপন্থী। এই কেন্দ্রীয় আইনে মাদক এবং মানসিক রোগের ওষুধের অবৈধ ব্যবসায়ীদের নিবর্তনমূলক আটকের ভিন্ন বিধান রয়েছে।
কারণ, ‘পিআইটিএনডিপিএস ১৯৮৮’ নামের ওই কেন্দ্রীয় আইনে ইতিমধ্যেই মাদক কারবারিদের প্রতিরোধমূলক সশ্রম সাজার সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বলবৎ রয়েছে। ফলে এই প্রস্তাবিত বিলে রাজ্য সরকার মাদক অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করায় কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সমান্তরাল আইনি পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে, যা ভারতীয় সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আইনি দ্বৈততা বা বিরোধ এড়াতে বিলে ২(ডি)(৩) (বি)অনুচ্ছেদ থেকে মাদক সংক্রান্ত ধারাটি ছেঁটে ফেলে সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
‘বিল ফেরত’ ঠিক নয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত গ্রাহ্য




