৩৬৫ দিন। শুভায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতির কারণে ইলিশ আমদানি অনুমতিপত্র বাতিল করল বাংলাদেশ। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের মৎস্য মন্ত্রণালয়ের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সম্প্রতি গুজরাত থেকে যেভাবে ইলিশ মাছ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে, সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সে দেশে খুব অল্প পরিমাণে ইলিশের উৎপাদন হচ্ছে। যার ফলে উৎসবের মুখে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি খুবই কম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতার হাওড়ার ইলিশ বিক্রেতাদের মত, যদি বাংলাদেশ সরকার পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ বিক্রেতাদের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না দেয়, তাহলে বাঙালির পাতে পদ্মা বা মেঘনার ইলিশ পড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। শুক্রবার বাংলাদেশে ছুটির দিন। আগামী ৪ অক্টোবর বাংলাদেশে ইলিশ চাষ বন্ধ হওয়ার কথা। তার আগে হাতে আর মাত্র দশ দিন সময় থাকছে ইলিশ আমদানির ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশের ইলিশ মাছ স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয়। ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত সহ পৃথিবীর নানান প্রান্তে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ রপ্তানি করা হয়। কিন্তু ভারতের গুজরাত থেকে যেই ইলিশ মাছ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে তা অতটা স্বাদের নয়।বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়েছে, গুজরাতের ইলিশ মাছ বাংলাদেশের বাজারে সমাদৃত হয়নি। বাংলাদেশে ইলিশ মাছ বিক্রেতারা অনেক সময় গুজরাতের ইলিশ মাছ বাংলাদেশের ইলিশ বলে সেখানকার বিক্রেতাদের বিক্রি করছে। বাংলাদেশের বিক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে, তার ফলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ফিস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এর তরফে সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে হাওড়ার বাজারে মায়ানমারের ৩৭৫ টন ইলিশ মজুত রয়েছে। যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাবর্তন না করা হয়, তাহলে উৎসবের মুখে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ আসবেনা। চলতি বছরে, প্রায় ৫৫০ টন ইলিশ মাছ গুজরাত থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ১৫০ টন ইলিশ ভারতে আমদানি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ মাছ আমদানির পরিমাণ বিগত বছর গুলিতে ক্রমশ কমেছে।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনকালে ন্যায্য দামে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে ইলিশ মাছ আমদানি হত। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা যে মূল্য নির্ধারণ করতেন সেই মূল্যেই কলকাতার বাজারে বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ মাছ বিক্রি হত। পশ্চিমবঙ্গের কোলাঘাট বা ডায়মন্ড হারবারে বরাবরই অল্প পরিমাণ ইলিশ মাছ পাওয়া যায়, যা রাজ্যের চাহিদার তুলনায় খুবই কম। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ চাষের উদ্যোগ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জুলাই উৎসব শুরু হওয়ার পর, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে আসেন। যার ফলে দু দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের মত। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করে, বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ ভারতের রপ্তানি করা হবে। কিন্তু এই ঘোষণার পরেও খুব অল্প পরিমাণ ইলিশ ভারতের রপ্তানি হয়। বাংলাদেশ সরকারের সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ মাছ ব্যবসায়ীরা যারা বাংলাদেশের মৎস্য ব্যবসায়ীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তারা পাঁচ গুণ বেশি দামে বাংলাদেশের ইলিশ ইউরোপ ও আমেরিকার নানান দেশে রপ্তানি করে। এটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ইলিশ মাছ আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি লংঘন করে। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বছর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হবে। বাংলাদেশের বিএনপি সরকার এক্ষেত্রে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছে। যদিও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান করেননি। তাই এখনো পর্যন্ত দুধের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল হয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে পশ্চিমবঙ্গবাসী বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ মাছের স্বাদ পাবে তা নিয়ে এখনো জট কাটেনি।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতির কারণে ইলিশ আমদানি অনুমতিপত্র বাতিল করল বাংলাদেশ




