এস আর এফ টি আই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের
বাড়ছে চাপ

৩৬৫ দিন।দু-দুবার বহিরাগতদের হামলার মুখে পড়তে হয়েছে এস আর এফ টি আইয়ের পড়ুয়াদের। আর এস এস ঘনিষ্ঠ সংগঠনের,সদস্য
দের দখলদারি মানা হবে না, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় পদ ছাড়তে হবে উপাচার্য সন্তোষআজমেরকে ,এই দাবিতে চলছে লাগাতার অবস্থান আন্দোলন, ক্যাম্পাসে পড়ূয়াদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান,আন্দোলনের মাঝে এবার নোটিশ জারি করল এস আর এফ টি আই কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষের তরফে নোটিশ জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত বন্ধ রাখা হবে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট।একথা মাথায় রেখে পড়ুয়াদের ছাড়তে হবে হোস্টেল ও ক্যাম্পাস। এস আর এফ টি আইয়ের নিয়ম মেনে জারি হয়নি নোটিশ, পুরোটাই
বেআইনি, আইনের পথে লড়াই
চলবে,সরব পড়ুয়ারা —
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ সংগঠনের দখলদারির বিরুদ্ধে
একযোগে আন্দোলনে নেমেছেন এস আর এফ টি আইয়ের ছাত্র -ছাত্রীরা। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সভাকে কেন্দ্র করে গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রথম অশান্তির সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, বহিরাগতরা তাণ্ডব চালায় সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আবার ৪ অক্টোবর আবার হিন্দু জাগরণ মঞ্চের লাঠি, লোহার রড সহ হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা দানা বাঁধতে দেখা যায়। দু-দুবার তাণ্ডব ও হামলার মুখে পড়ে ছাত্র -ছাত্রীরা একযোগে আন্দোলনে সামিল হয়েছে। সেই আন্দোলনকে চলচ্চিত্র জগতের বিখ্যাত ব্যাক্তিদের মতোই প্রাক্তনী রাও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের আসল দাবি, উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার আমলে এভাবে হিংসা ও তাণ্ডবের ঘটনা বেড়ে গেছে, সেই কারণে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। সম্মিলিত আন্দোলনের মাঝে
কর্তৃপক্ষ পুজোর আগে হোস্টেল ছাড়ার নির্দেশ জারি করে বিতর্ক তৈরি করে। পুজোর পর আবার কর্তৃপক্ষের নয়া নির্দেশিকা ঘিরে, তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার যেভাবে কোনরকম আলোচনার রাস্তা না খুলে,গায়ের জোরে এস আর এফ টি আইয়ের নিয়ম বিধি না মেনে নোটিশ জারি করা হয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ ছাত্র -ছাত্রীরা। এবিষয়ে,আন্দোলনকারী ছাত্রদের তরফে সুদীপ চক্রবর্তী জানান, আমারা মনে করা কোনো রকম নিয়ম বিধি মেনে এই নোটিশ জারি করা হয় নি‌।পুরোটাই, একতরফাভাবে করা হয়েছে,এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামীদিনে আমরা আরও বড়সড় আন্দোলন গড়ে তুলবো,এর মধ্যে আমরা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। কোনো জবাব দেয়নি।প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের পথে যাবো। আদালত খুললেই এই বেআইনি নোটিশ নিয়ে আমরা দ্বারস্থ হতে চাই।
ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু কাজকর্ম ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ক্যাম্পাস ও হোস্টেল খালি করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে দাবি এস আর এফ টি আই কর্তৃপক্ষের। এই যুক্তি মানতে একেবারেই নারাজ ছাত্র ছাত্রীদের বৃহত্তর অংশ। তাঁরা পাল্টা সরব হয়েছে, আসলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আলোচনার পরিবেশ না তৈরি করে,অগণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে,যা ছাত্র ছাত্রীদের কাছে অবমাননাকর, অমর্যাদাকর। তাই কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেনআন্দোলনকারীরা।

Scroll to Top