৩৬৫ দিন। অরিজিৎ কর। এক বুক চাপা কান্না আর একরাশ সোনালী স্মৃতিকে সঙ্গী করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরবিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে যে লাল-সবুজ জার্সিটিকে নিজের দ্বিতীয় ত্বক করে তুলেছিলেন, কোটি ভক্তের সেই প্রিয় ‘৭ নম্বর’ জার্সিটি অবশেষে তুলে রাখলেন ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা।সোশ্যাল মিডিয়া সাইটটে প্রকাশিত এক আবেগঘন বার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবসরের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ ভিজিয়ে দিলেন সিআরসেভেন।
২৩৪টি ম্যাচ এবং ১৪৬টি আন্তর্জাতিক গোলের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ে বিদায়লগ্নে কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ হয়ে ওঠে রোনাল্ডোর। দেশবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠির মতো বার্তায় তিনি বলেন, “পর্তুগালের প্রিয় মানুষেরা, আজ জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার কঠিন দিনটি চলেই এসেছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। কারণ সব সিদ্ধান্ত কেবল মস্তিষ্ক দিয়ে হয় না, কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে বুকচাপা হৃদয়ের স্পন্দন জড়িয়ে থাকে। ২০০৩ সালের এক বিকেলে যে স্বপ্নের পথচলা আমার জীবনকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল, আজ চোখের জলে তার সমাপ্তি ঘটল।” ২০১৬ সালে দেশকে প্রথম ইউরো ট্রফি এনে দেওয়া এই অধিনায়কের বিদায়ে পর্তুগাল জুড়ে নেমে এসেছে গভীর স্তব্ধতা।
তবে এই অবিসংবাদিত রাজপুত্রের বিদায়লগ্নেও ছায়া ফেলেছে কিছু তিক্ত বাস্তবতা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নেশনস লিগে ওয়েলসের বিরুদ্ধে জয়ই ছিল পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ। পরবর্তী ম্যাচে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতপার্থক্য এবং শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়ার ইঙ্গিত রোনাল্ডোকে এতটাই আহত করেছিল যে তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করেন। অভিমান আর ক্ষোভ থাকলেও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছে, “রোনাল্ডো কেবল খেলোয়াড় নন, তিনি একটি জাতির আত্মপরিচয় ও স্বপ্নের নাম।” শিগগিরই ঘরের মাঠে তাঁর জন্য এক বিদায়ী সংবর্ধনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
জাতীয় দলের হয়ে সবটুকু নিংড়ে দেওয়ার পর ক্লাব ফুটবলে এখনও সক্রিয় থাকছেন রোনাল্ডো। আল-নাসরের জার্সিতে এই মরসুম শেষেই হয়তো পুরোপুরি বুটজোড়া তুলে রাখবেন তিনি। আন্তর্জাতিক মঞ্চ তাঁর গর্জন আর দেখতে পাবে না, তবে ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর হয়ে রইল তাঁর অশ্রুসিক্ত সেই ঘোষণা এক সাধারণ ছেলে থেকে ফুটবল-ঈশ্বর হয়ে ওঠার অমর এক রূপকথা।






