৩৬৫ দিন। আয়ুষ্মান দে। হুগলি। তন্ত্রসাধনা ও রহস্যের জীবন্ত সাক্ষী জিরাটের কেলেগড়ে আজও জাগ্রত ডাকাতকালী! ৬০০ বছরের ইতিহাসে জমিদারির আড়ালে কেলে ডাকাতের আতঙ্ক! সতীর বলয় পতনের বিশ্বাসে জিরাটের সিদ্ধেশ্বরী মা আজ ও অগণিত ভক্তের আরাধ্য দেবী মা।একদিকে দেবী সতীর হাতের বলয় পতনের পৌরাণিক বিশ্বাস, অন্যদিকে জমিদারের ছদ্মবেশে ডাকাতির রোমহর্ষক কিংবদন্তি! ইতিহাস, তন্ত্রসাধনা আর রহস্যের এমন আশ্চর্য মেলবন্ধন হুগলির জিরাটের কালিয়াগড় বা কেলেগড়ের মা সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির। প্রায় ৬০০ বছরের প্রাচীন এই মন্দির শুধু ধর্মীয় আস্থার কেন্দ্র নয়, বাংলার লোকঐতিহ্যের এক বিস্মৃত অধ্যায়েরও জীবন্ত সাক্ষী। লোকবিশ্বাসে এই স্থানই বলয়োপপীঠ।
মন্দির ও এলাকার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে চক্রবর্তী, গোস্বামী ও মুখোপাধ্যায়—এই তিন পরিবার। জনশ্রুতি, মুখোপাধ্যায় বংশের আদি পুরুষ কাশীনাথ অধিকারীর হাত ধরেই দেবীর আরাধনার ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে তাঁর দুই কন্যার বিবাহ হয় গোস্বামী ও চক্রবর্তী পরিবারে। বংশপরম্পরায় এই পরিবারগুলির সঙ্গে মন্দিরের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে হুগলির ডাচ ও ইংরেজ বণিকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাতেও এই পরিবারের সদস্যদের ভূমিকার কথা শোনা যায়। এই বংশের কৃতী সন্তান বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
তবে মন্দিরের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পরিচয় কেলে ডাকাতকে ঘিরে। লোককথা অনুযায়ী, কালিয়াগড়ের জমিদার কালিচাঁদ দিনের আলোয় জমিদার, আর রাতের অন্ধকারে কপালে সিঁদুর মেখে অস্ত্র হাতে হয়ে উঠতেন কেলে ডাকাত! পথচারীদের লুঠ করে বিপুল সম্পত্তি গড়ার কাহিনি আজও লোকমুখে ফেরে। যদিও তাঁর উত্তরপুরুষেরা এই অভিযোগ মানেন না এবং ঘটনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণও নেই। তবু সেই কিংবদন্তিই মন্দিরকে দিয়েছে ডাকাতকালীর পরিচিতি।






