ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার অধিকার তার
পুজো উদ্যোক্তাদের সভায় বললেন মুখ্যমন্ত্রী

৩৬৫ দিন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার বললেই হয় না। বলতে হয়, ধর্ম যার যার, রক্ষা করার দায়িত্বও তার তার। এটাই পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গ। এভাবেই আজ রাজ্য সরকার আয়োজিত বিজয়ার সম্মিলনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের সমস্ত ধর্মের মানুষকে দায়িত্বশীল ভাবে নিজেদের ধর্ম পালন ও ধর্ম রক্ষার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রসঙ্গত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বহু ভাষাভাষী এবং বহু ধর্মের মানুষের ধর্ম পালন সম্পর্কে প্রতিনিয়ত স্লোগান দিতেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার নয়। আজ নতুন স্লোগান দিয়ে মমতার সেই স্লোগানের মতাদর্শ ভুল ছিল বলে দাবি করলেন শুভেন্দু।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক বছর দুর্গাপুজোর পরে রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বিজয়ের সম্মিলনী পালনের প্রথা চলে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। এবারেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হলেও সপ্তমীর দিন চোর বাগানের পুজো মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যাবতীয় উৎসব পালনের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। তাই বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ কার্যত পরিণত হলো চোরবাগানে নিহত দর্শনার্থীদের স্মরণ সভায়। তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপুজোর সময়ও বিভিন্ন সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় মাইক বাজানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতো বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে মাইক নিয়ন্ত্রণ করা হত। এবার হয়নি। বিগত দিনে রুট ঠিক করে দেওয়া হত। এদিক নয় ওদিকে যেতে হবে। এবার তা করা হয়নি। পুজো কমিটি, ভক্তদের ইচ্ছায় নয়, সবটাই নিয়ন্ত্রণ করা হত। অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ বুঝেছেন, ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্ব তার তার।

আহতদের ক্ষতিপূরণ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
চোর বাগানের মন্ডপে নিহত ১৯ জনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা 17 জনের বাড়িতে গিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকার করে চেক নিজের হাতে তুলে দিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ মিলন মেলায় রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠানে শুরুতেই চোরবাগানে আহত ২৫ জনের হাতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
চোরবাগান কান্ড মানুষের ভুলেই
চোর বাগান পূজা মন্ডপে ১৯ জন দর্শনার্থীর পদথিষ্ট হওয়ার ঘটনার পেছনে রয়েছে মানুষের ভুল। বিজয়া দশমীর বক্তব্য থেকে রাষ্টীয় সারাংশ সেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত যে দাবি করেছিলেন আজ তাকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি যে একটি হিউম্যান এরর‌ বা মানুষের ভুল, তা অনস্বীকার্য। সরকার অনুমোদিত পুজো হওয়ায় ঘটনার তদন্তভার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির হস্তক্ষেপে গড়া কমিটির হাতে সমর্পণ করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তে যে সুপারিশ বা রেকমেন্ডেশন উঠে আসবে, তা কাউকে আড়াল না করে প্রকাশ্যে ব্রোশিয়ার আকারে পুজো কমিটিগুলির সামনে তুলে দেওয়া হবে, যাতে ২০২৭ সালে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আনব না, ছোট্ট ঘটনা বলব না। মূল্যায়ন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি করবেন। কাউকে আড়াল করবে না সরকার। পাশাপাশি চোর বাগানে আহতদের কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সেই প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি। এতে ব্যর্থতার কিছু নেই। সরকারি হাসপাতালের তুলনায় দামি হাসপাতালে পরিষেবা অনেক ভালো। ইগো দেখিয়ে, অহঙ্কার দেখিয়ে, হাম কিসিসে কম নেহি বলে আটকে রাখিনি। মা দুর্গার কৃপায় তাঁরা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
কালীপুজোর নিরাপত্তায় আগাম সর্তকতা
তোর বাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারে কালীপুজো এবং আসন্ন জগদ্ধাত্রী পূজা উপলক্ষে যাতে কোনো রকম সমস্যা তৈরি না হয় তার জন্য আগাম সর্তকতা হিসেবে প্রস্তুতি বৈঠকে বসছে রাজ্য প্রশাসন। নবান্ন সূত্রে খবর, বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ নবান্ন সভাঘরে হবে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে বিভিন্ন জেলাশাসক, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন।
ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ডিসেম্বরে
অন্যান্য বছরের মতো নভেম্বরে নয়, চলতি বছরে কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হবে ডিসেম্বরে। আজ সোমবার হাওড়ার সাঁতরাগাছি থেকে একটি ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইচ্ছায় চলতি বছরে আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে চলচ্চিত্র উৎসব। তারপরেই কলকাতাতে হবে প্রবাসী ভারতীয়দের নিয়ে সম্মেলন। তাতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর আগে ওনাকে কলকাতায় একাধিক মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধন করতে অনুরোধ করব।
৩০-০ করে মমতাকে খালি হাতে ফেরাতে হবে
আর তমলুক বিজেপি সংগঠনিক জেলার কার্যালয়ের ভূমী পূজো উপলক্ষে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুরো জেলার কর্মীরা ঝাপিয়ে পড়বেন। একদম শূন্য করে দিতে হবে ৩০ আসনেই। একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খালি হাতে পাঠাতে হবে। অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে আমাদের। যাতে আর কোনও ক্ষতি করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। বউনি করতে দেব না। লিখে রাখুন আমার নাম করে। জনগণ আমার সঙ্গে আছে।

Scroll to Top