৩৬৫ দিন। দ্য কাশ্মীর ফাইলস, দ্য কেরালা স্টোরি এবং দ্য বেঙ্গল ফাইলস-এর মতো রামায়ণ ছবিটিকে পশ্চিমবঙ্গে করমুক্ত ঘোষণা করা হল। আগামী দিনে শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুন এবং মহাভারতের মতো মহাকাব্যিক থিমের উপর আরও ছবি আমরা দেখতে পাব। সেন্ট্রাল পার্কের মাঠে দশেরার সন্ধেয় সল্টলেক সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত রাবণ দহন অনুষ্ঠানে রামায়ণ ছবির রাম রণবীর কাপুরকে পাশে নিয়ে এমন ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেন্ট্রাল পার্কের মাঠে শ্রীরামচন্দ্রের বিশাল মূর্তির পাশাপাশি ছিল রাবণ দহনের জন্য বিশাল মূর্তি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে শ্রীরামচন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করার রণবীর কাপুর ও অভিনেতা যশ উপস্থিত ছিলেন আগা গোড়া। বাংলার দুর্গা পুজোয় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি এই রাবণ দহনে তীর ধনুক হাতে নিয়ে অশুভ শক্তির প্রতীক রাবণের মূর্তিতে আগুন প্রজ্জ্বলিত করে রণবীর কাপুর বলেন, কলকাতার এই পবিত্র ভূমিতে এসে আপনাদের সকলের সঙ্গে দশেরা উদযাপন করা আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়। বিজয়া দশমী আমাদের শেখায় যে, অসত্য ও অন্যায় যতই শক্তিশালী হোক না কেন, শেষপর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়।
সনাতনীরাই প্রতিমার গায়ে হাত দেবেন
যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁরাই প্রতিমাতে হাত দেবেন। এভাবেই আজ দুর্গা পুজোর দশমীর দিন বাজে কদমতলা ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের যাবতীয় নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জনে কারা যোগ দিতে পারবেন গাইডলাইন বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন, মাকে যাঁরা নিয়ে যাবেন, তাঁদের নাম পরিচয়ও আমি সিপি-কে বলে গেলাম, ওটাও আইডেন্টিফাই করে দিতে হবে। যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁরাই প্রতিমাতে হাত দেবেন। এটার মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই।
সনাতনী পদ্ধতিতে বিসর্জন
বিগত কয়েক বছরে গঙ্গার ঘাটে বিসর্জনের সময় ট্রেন ব্যবহারের ফলে সনাতনী ভাবধারায় আঘাত লেগেছে বলে বারে বারে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সেই ধর্মীয় আবেগকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকার ক্রেনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় নিয়ম ও রীতি নীতি মেনে ম্যানুয়াল ট্রলি বা হাতে চালিত ট্রলির মাধ্যমে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
বিসর্জনের দায়িত্বে ১৮ আইপিএস অফিসার
পুজোর বিসর্জনের সময় কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলির কোন বিসর্জন ঘাটে অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হল রাজ্যের অভিজ্ঞ ১৮ আইপিএস অফিসারের উপরে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে রাখা হচ্ছে কলকাতা পুলিশ এলাকায়। বাকি ছ’জন দায়িত্ব সামলাবেন হাওড়া, বারাকপুর ও চন্দননগরে। কোন দিন, কোন এলাকায় কে দায়িত্বে থাকবেন, তা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য পুলিশ। কলকাতা পুলিশ এলাকায় ২১ ও ২৩ অক্টোবর বিসর্জনের দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস গৌরব শর্মা, সোমা দাস মিত্র, রশিদ মুনির খান, আকাশ মাঘারিয়া, সুরেশকুমার চাডিভে এবং ধৃতিমান সরকার। অন্যদিকে, ২২ ও ২৪ অক্টোবর নজরদারির দায়িত্ব সামলাবেন আইপিএস প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, ইমরান ওয়াহাব, শীষ রাম ঝাঝরিয়া, সৌম্য রায়, পারিজাত বিশ্বাস এবং সিদ্ধার্থ ধাপোলা। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, বারাকপুর ও চন্দননগরেও বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এই তিন পুলিশ এলাকায় দু’জন করে মোট ছ’জন আইপিএস আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুলিশ জেলায় ২১ ও ২৩ অক্টোবর বিসর্জনের তদারকি করবেন আইপিএস ইন্দ্র চক্রবর্তী। ২২ ও ২৪ অক্টোবর দায়িত্বে থাকবেন আভারু রবীন্দ্রনাথ। বারাকপুর পুলিশ জেলায় বিসর্জনের নজরদারির দায়িত্ব পেয়েছেন পলাশচন্দ্র ঢালি ও দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। চন্দননগরে দায়িত্ব সামলাবেন আইপিএস অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপ মণ্ডল।
বিসর্জনের নজরদারিতে মোতায়েন এনডিআরএফ
চোরবাগান পূজা মন্ডপে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার জেরে ১৯ দর্শনার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর বিসর্জনে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য আগাম সর্তকতা অবলম্বন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি এবার এনডিআরএফ টিমও মোতায়েন থাকবে।
চোরবাগানে নিহত প্রিয়ার মাকে স্কুটি ও ২৭ লক্ষ
চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো বুধবার, দশমীর সকালে নিউ বারাকপুরে প্রিয়া সমাদ্দারের বাড়িতে গেলেন। প্রিয়ার মা-বাবার সঙ্গে কথা বললেন। রাজ্য সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেকও তুলে দিলেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হল ২ লক্ষ টাকা। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় যাচ্ছি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত হচ্ছে। আমরা সব তথ্য দিয়েছি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে। আমরা ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি। পিএম রিলিফ থেকে ২ লাখ টাকা। আমরা ওঁকে কাজ দেব। চালাতে পারলে স্কুটিও দিতে বলেছি। মেয়েটা আদরের ছিল। মা ট্রমাতে আছেন। স্থানীয় বিধায়ক পরিবারের দেখাশোনা করবেন। সবাই পরিবারের পাশে আছে।





