৩৬৫ দিন। অবশেষে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল। মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ডম্বিভিলি থেকে উদ্ধার করা ওরাংওটাং ফিরিয়ে দেওয়া হল ইন্দোনেশিয়ায়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডম্বিভিলির একটি ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে মহারাষ্ট্রের বন দফতর একটু ওরাংওটাং শিশু ও একাধিক বিদেশি সরীসৃপ উদ্ধার করে।
এদিন গুজরাট থেকে চারটার্ড বিমানে ইন্দোনেশিয়ার মেডানে কুয়ালানামু বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। দু দেশের বন দফতর কর্তারা, দূতাবাসের কর্মকর্তা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বনতারা র কর্মী, পশু চিকিৎসকরা। উদ্ধারের পর গুজরাতে অনন্ত আম্বানির বনতারাতেই কিছুদিন রাখা হয়েছিল ওরাংওটাং শাবকটিকে।
চোরাচালানকারীদের গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ জানতে পারে প্রতি বছর মায়ানমার, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া থেকে প্রচুর পশুপাখি পাচার করা হয়। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ডম্বিভিলির ফ্ল্যাট থেকে একটা ছোট খাঁচায় বন্দি ওরাংওটাংটিকে উদ্ধার করা হয়। তার শারীরিক অবস্থাও ভালো ছিল না। প্রথমে নাগপুরের চিড়িয়াখানায় তার চিকিৎসা চলে, পরে গুজরাটের বনতারায় পাঠানো হয়। শিশুবয়সেই মায়ের থেকে কেড়ে নেওয়ায় এই ওরাংওটাং শাবকটি জঙ্গলের কিছুই জানত না। তাকে বনতারার কর্মীরা সুমাত্রার জঙ্গলে পুনরবাসনের জন্য ট্রেনিং দেয়। এরমধ্যেই ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ ওরাংওটাংটিকে ফেরানোর জন্য মহারাষ্ট্রের বন দফতরের সঙ্গে দূতাবাস মারফত যোগাযোগ করে। অবশেষে দীর্ঘ বার্তালাপের পর সোমবার রাতে গুজরাত বিমানবন্দর থেকে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্য রওয়া হয় ওরাংওটাং ও তার টিম। জানা গেছে মেডানের একটি রিসকিউ সেন্টারে কিছুদিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে তাকে। এরপর অভয়ারণ্যে কিছুদিন অন্য একটু ওরাংওটাং দলের সঙ্গে ভিড়িয়ে দেওয়া হবে শিশুটিকে।
প্রসঙ্গত ওড়িশার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা ৫ ওরাংওটাং শিশুকে রাখা হয়েছে ভুবনেশ্বরের নন্দন কাননে। সেখানে চিকিৎসার পর বহাল তবিয়তেই আছে তারা। জানা গিয়েছে এই শাবকগুলিকেও ফেরানোর কথা চলছে। আগামী নভেম্বরেই নন্দন কাননে জাকারতা থেকে বন দফতরের কর্মকর্তারা আসবেন। এরপর তাদের ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। চোরাশিকারিদের দাপটে মুছে যেতে বসা বিরল প্রজাতির এই পশুগুলিকে রক্ষায় ভারত, ইন্দোনেশিয়া দুদেশের সম্পর্ক আরও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পশুপাচার রুখতেও দু দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে বলে জানা গেছে।
মহারাষ্ট্রে উদ্ধার হওয়া ওরাংওটাং ফিরল ইন্দোনেশিয়ায়
- khabar365din
- October 20, 2026
- 7:06 pm
- No Comments






