৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের শুরুটা ভালো হয়নি মোহনবাগানের। গুয়াহাটির মাঠে প্রথম ম্যাচেই নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড দলের কাছে পরাজিত হয়েছে সবুজ মেরুন। ৩ মিনিট বাকি থাকতে সেদিন গোল খেয়েছিল মোহনবাগান। ম্যাচে বেশি সুযোগ তৈরি করেও দাপট দেখিয়েও কাজের কাজ অর্থাৎ গোলটা করতে পারেনি শিল্ড চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু ফুটবলে প্রতিটা সকাল নতুন স্বপ্ন নিয়ে আসে। তাই আজ শুক্রবার দিল্লির মাঠে আবার একবার নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করতে নামবে মেরিনার্সরা। প্রতিপক্ষ দিল্লি। এই দলটার বিরুদ্ধে মোহনবাগান গতবারের ইন্ডিয়ান সুপার লিগে শেষ ম্যাচটা খেলেছিল। গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল প্রথমে।
তারপর মনবীর এবং একেবারে শেষ মুহূর্তে ম্যাকলারেন গোল করে জয় এনে দিয়েছিলেন। দিল্লি দলটা এবারের আইএসএল শুরু করেছে বেঙ্গালুরুর কাছে হেরে। কিন্তু যারা খেলাটা দেখেছিলেন তারা সাক্ষী ছিলেন কি অদম্য লড়াই করেছিল দিল্লি। দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও অভিজ্ঞতার অভাবে বেঙ্গালুরুর কাছে হেরে যেতে হয়েছিল। দিল্লি দলের গোল তৈরি করা এবং গোল করার প্রধান হাতিয়ার একজন ব্রাজিলিয়ান এবং একজন কলম্বিয়ান। রড্রিগিনো এবং পিনা নিজেদের ছন্দে থাকলে যে কোনও ডিফেন্স লাইনের চাপ বাড়িয়ে দিতে পারেন। এছাড়া তাদের দলে মনোজ মোঃ, হানামতের মতো কলকাতার বড় ক্লাবে খেলে যাওয়া ফুটবলার আছে। তাছাড়া দিল্লির কোচ মোহনবাগানকে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন করা কিবুর একসময়ের সহকারি টমাস। প্রথম ম্যাচে জেমিকে চোট সমস্যার কারণে কলকাতায় রেখে খেলতে গিয়েছিল বাগান। কিন্তু প্রকৃত একজন স্ট্রাইকারের অভাবে সবকিছু করেও হেরে যেতে হয়েছিল। লি আরউইন চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার চেষ্টা পোস্টে লাগে। আরো একটা সহজ সুযোগ মিস করেছিলেন তিনি। এবার কিন্তু দিল্লির বিরুদ্ধে কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ম্যাকলারেনকে। জেমি নিজেও জানেন তিনি হয়তো ৯০ মিনিট খেলার জায়গায় নেই। তাকে সম্ভবত শেষ কুড়ি মিনিট নামিয়ে জোড়া বিদেশি স্ট্রাইকার খেলাবেন পানোস। তাছাড়া অনুশীলনে সাহল, অভিষেক, আলবার্ত, রাহুল, মেহতাব- প্রত্যেককে দেখা গেল মোহনবাগান কোচ বার্তা দিচ্ছেন নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কম রাখতে এবং দ্রুত পাস খেলতে সামনের দিকে।

মাঝখানে আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ কতটা পারফরম করতে পারেন তারপর নির্ভর করছে মোহনবাগানের ভাগ্য। দিল্লি দলটার বয়স কম এবং গতি আছে। বেশ কয়েকজন স্কিলফুল ছেলে আছে। তবে অভিজ্ঞতায় কিছুটা হলেও এগিয়ে মোহনবাগান। তাছাড়া প্রথম ম্যাচে নর্থইস্ট পরাজয়ের পর মোহনবাগান দিল্লি থেকে অন্তত তিনটি পয়েন্ট নিয়ে কলকাতায় ফেরার জন্য মরিয়া থাকবে সেটা বলাই যায়। মুখে বড় দল বলে লাভ নেই। এবার কাজে করে দেখাতে হবে সবুজ মেরুন ফুটবলারদের। মোহনবাগানের বক্সের মধ্যে ফিনিশিং এর অভাব হচ্ছিল। ভালো খেলেও গোল না করতে পারলে লাভ নেই ফুটবলে। ম্যাক দলে যোগ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে মোহনবাগান জয় তুলে নিতে পারে কিনা এবার সেটাই দেখার। সুহেল আহমদ আগের ম্যাচে সহজ সুযোগ হারিয়েছিলেন। তাকে হাফ চান্স থেকেও গোল করতে হবে। দেখা যাক বাগানের কাশ্মীরি ফরওয়ার্ড গোল করতে পারেন কিনা।





