রাতারাতি রাস্তা থেকে মোছা হল রামধনু রং

৩৬৫ দিন । ভাঙবো তবু মচকাবো না । চিংড়িঘাটা , গড়িয়াহাট সহ শহরের ও রাজ্যের নানা রাস্তা ও ফ্লাইওভারে রামধনু রঙের রাঙানোর ফলে স্কিড্ করে দুর্ঘটনা ঘটছে এই বিতর্ক উঠতেই বৃহস্পতিবার গড়িয়াহাট ও চিংড়িঘাটার একাংশ থেকে রীতিমতো মেশিন দিয়ে মোছা হচ্ছে সেই রং ।অন্যদিকে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও পুলিশ কমিশনার রঙের জন্য দুর্ঘটনা নয় বলে সাফাই দিলেও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে রং করাটা যদি নিরাপদই হয় তাহলে তা খরচ করে করার পর ফের খরচ করে মোছাই বা হচ্ছে কেন।এই নিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক কুনাল ঘোষও প্রশ্ন তুলেছেন ।উল্লেখ্য বুধবার ফ্লাই ওভারে বেশ কয়েক জন বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় পিছলে পড়ে যাওয়ার রংকেই দোষেন তারা ।এই নিয়ে বিতর্ক তৈরী হতে রাতেই এই নিয়ে তদন্ত করে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
এদিন গড়িয়াহাট ফ্লাই ওভারের বালিগঞ্জ ফাঁড়ির দিকের রাস্তায় ঘষে ঘষে তোলা হচ্ছে । আধিকারিকরা জানান কে এমসির তরফে এই রং তুলে ফের নির্দেশ পেয়েছেন বলে তারা রাস্তা থেকে তা তুলে ফেলছেন । একই ঘটনা চিংড়িঘাটা উড়ালপুলেও। স্পিড নিন্ত্রয়ণে বসানো হল বিশেষ ব্লক। রাস্তায় ক্যাটস আই বসানো হয়েছে। ক্যাটস আই বসানো নিয়ে পুলিশের বক্তব্য উড়ালপুলের ওই জায়গায় একটা বাঁক আছে। দ্রুত গতিতে গাড়ি চললে অনেক সময় এই ধরনের বাঁকে গাড়ি স্কিড করতে পারে। সেই কারণে ওই জায়গায় গাড়ির গতি কমানোর ব্যবস্থা করতে স্টাডস বসানো হয়েছে। এই নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রার দাবি যদি প্রমান হয় রঙের জন্য এই সমস্যা তাহলে রং তুলে ফেলে অন্য কোথাও করা হবে
পুজোর আগে কলকাতার একাধিক উড়ালপুল চোখধাঁধানো রামধনু রঙে সাজিয়ে তোলা হয় উড়ালপুলও। কিন্তু বুধবার বৃষ্টি হওয়ায় ওই উড়ালপুলে ভেজা রাস্তার উপর পর পর দু’টি বাইক উল্টে যায়। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই ঘটনার ভিডিয়ো। অনেকেই দাবি করেন, রং করার কারণে বৃষ্টিতে রাস্তা আরও পিছল হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই বাইকের চাকা পিছলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন রাস্তায় যে রং করা হয়েছে, তার জন্যই মোটরসাইকেলগুলি পড়ে গিয়েছে।এর রং করা যে ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেস এর নিয়ম ভেঙে করা হচ্ছে তাও উল্লেখ করেন জাতীয় ও রাজ্য সড়কের রক্ষণাবেক্ষণে থাকা আধিকারিকরাও ।
আসানসোলেও একই ঘটনা , মোছা হলো রাস্তার রং
আসানসোলের রাস্তা থেকেও তুলে ফেলা হল রামধনু রং। বুধবার রাতে আসানসোলের ভগত সিং মোড়ে রাস্তার উপর রং করা হলেও, রাত পেরোতেই তা সরিয়ে দেওয়া হয়। চিংড়িঘাটা সেতুতে বাইক স্কিড করে দুর্ঘটনার পরেই রাজ্যজুড়ে রাস্তার রং নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রং সরানোর সিদ্ধান্তকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই ব্যাখ্যা করলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল।
পুজোর আগে শহরকে নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। তবে রাস্তায় এই ধরনের রং ব্যবহার নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। এরই মধ্যে চিংড়িঘাটা সেতুতে দুটি মোটরসাইকেল স্কিড করে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
বুধবার রাতে আসানসোলের ভগত সিং মোড়ে রাস্তা রামধনু রঙে সাজানো হলেও, বৃহস্পতিবার সকালে সেই রং আর চোখে পড়েনি।বিষয়টি নিয়ে অগ্নিমিত্রা পালকে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, রাস্তায় সাধারণ রং নয়, ব্যবহার করা হয়েছিল অ্যান্টি-স্কিড রং। তাঁর বক্তব্য, রং করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো স্পষ্ট তথ্য এখনও নেই। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, রাস্তায় যে রং করা হয়েছে, সেগুলি অ্যান্টি-স্কিড রং। রঙের একটি সংস্থা তাদের সিএসআর ফান্ড থেকে এই কাজ করেছে। চিংড়িঘাটায় দুটি মোটরসাইকেল কেন স্কিড করল, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বিভিন্ন কারণে বাইক স্কিড করতে পারে। গতকাল সন্ধ্যায় কলকাতা থেকে ফেরার পথেও জাতীয় সড়কে একটি বড় দুর্ঘটনা দেখেছি। সেখানে তো কোনও রং ছিল না। তাই রঙের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে, এমনটা বলা যায় না। আবার রঙের কারণে যে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে না, তাও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়ারদের পাঠানো হয়। দমকল, কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। চিংড়িঘাটা সেতুতে ক্যাটস আই বসানোর পাশাপাশি রাস্তার উপরিভাগ ঘষে দেওয়া হয়েছে, যাতে টায়ারের সঙ্গে রাস্তার ঘর্ষণ বাড়ে।
রাস্তার সৌন্দর্যায়ন ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের মধ্যে এখন বড় প্রশ্ন, ব্যবহৃত রং আদৌ যানবাহনের নিরাপত্তার পক্ষে উপযুক্ত ছিল কি না। অগ্নিমিত্রা পাল সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা জানালেও, রাস্তার রং ও দুর্ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত।

Scroll to Top