ইন্ডিয়া গেটে ধর্নায় রাহুল, প্রিয়াঙ্কা

৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি।গণতন্ত্র বিপন্ন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লড়াই করছি একসঙ্গে। সরকার চায়, মানুষ তাদের কথা বলতে পারবে না। আমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই। আমরা এখানে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছি। এটি কোনও পৃথক আন্দোলন নয়, বরং একটি সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমরা যেমন শক্তি, সামর্থ্য এবং ঐক্যের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছি, তেমনি একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাব। এভাবেই আজ নিজের বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে চা চক্রে মিলিত হয়ে বৈঠকের পরে একসঙ্গে তিন হিসাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দফায় দফায় পথে নেমেছে বিরোধী জোটের সদস্যরা। এরই মাঝে আজ মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে বসেছিল চা চক্র। উপস্থিত ছিলেন তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, মহুয়া মৈত্রের মতো নেতা-নেত্রীরা। আইসা নেত্রী নেহা বোরাও উপস্থিত ছিলেন এদিন। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযান এবং তার আগে গত সপ্তাহেও তাদের আন্দোলনে যেভাবে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন তার জন্য দেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে জোটের পক্ষে রাহুল গান্ধী বলেন, আমরা একযোগে মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। কীভাবে করব, সেটা বলব না। তাহলে তো সারপ্রাইজ নষ্ট হয়ে যাবে।
জ্ঞানেশ কুমার ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে
রাহুল গান্ধী বলেন, গণতন্ত্রে যন্তর মন্তর ছিল মতামত প্রকাশের একটি মাধ্যম। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে গণতান্ত্রিক অনুভূতি প্রকাশের জন্য যন্তর মন্তর ব্যবহার করা যাবে না। আমরা সরকারের এই চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যাচ্ছি। যারা এর পরিকল্পনা করেছে, তাদের বুঝতে হবে যে তাদের গলায় ফাঁস ক্রমশ আঁটসাঁট হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যিনি এর মূল স্থপতি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এটি বাস্তবায়ন করছেন। জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্যরাও এর সঙ্গে জড়িত। তাদের বুঝতে হবে যে ভারতীয় সংবিধান ধ্বংস করে তারা সহজে পার পাবে না। আমরা সবাই এখানে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি। আমি গতকালও যেমনটা বলেছিলাম, এগুলো কোনও বিচ্ছিন্ন বা সংযুক্ত প্রতিবাদ নয়। এটি একটিই প্রতিবাদ, যার লক্ষ্য একটাই, ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। এই দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সংবিধান ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আমরা সবাই একসঙ্গে এই দেশে গণতান্ত্রিক শাসন এবং প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করছি।
পশ্চিমবঙ্গের সরকার অবৈধ
আজকের বৈঠকে রাহুল গান্ধী বারে বারে তুলে ধরেন সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন গুলিতে ভোট চুরি করে পশ্চিমবঙ্গ সহ বিহার ও মহারাষ্ট্রে অবৈধ সরকার গঠন করেছে বিজেপি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কে ভোট চুরির দায় তার পথ থেকে অপসারণ করার পাশাপাশি অপরাধমূলক মামলা দায়ের করে তদন্ত চালাতে হবে। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে এসআইআর প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করে ভোট চুরি করার জন্য লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পুরস্কার পেয়েছেন সরকার গঠন হওয়ার পরে রাজ্যের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ 2 আমলা হিসাবে পোস্টিং পেয়ে। এই দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অবিলম্বে ভোট চুরির মামলা দায়ের করার দাবি জানাই ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা।

বিচার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে

ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চেয়েও সাক্ষাৎ করতে না পারলেও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দল শ্রদ্ধাশীল রয়েছে বলে জানিয়ে রাহুলের বক্তব্য, আমরা সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানাই। সুপ্রিম কোর্ট, ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ভূমিকা আছে এবং আমরা আশা করি তারা তা পালন করবে। তবে, আমরা রাজনৈতিক মানুষ। তাই, যা-ই ঘটুক না কেন, কোনো প্রতিষ্ঠান তার ভূমিকা পালন করুক বা না করুক, আমাদের রাজনৈতিক বিরোধিতা অব্যাহত থাকবে। জনগণের সংগ্রামও চলবে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে দেশের জনগণ।
সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল
গতকাল সুপ্রিম কোর্টে লোকসভার বিরোধী দলনেতার রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি পৃথক যে দুটি মামলা দায়ের করেছিলেন জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এস আই আর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে এই দুই মামলার শুনানি আজ পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্টে জমা পরা পিটিশনে কিছু টেকনিক্যাল ত্রুটি থাকার জন্য আজ শুনানির জন্য তালিকায় ওঠেনি সকালে। তবে পরে প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্জ গঠন করে মামলার শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিলেও সুপ্রিম কোর্টের বাইরে আইনশৃঙ্খলা জনিত কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ায় আগামী ১৫ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়ে দেন।

Scroll to Top