ইস্টবেঙ্গল – ৭
নর্থ ইস্ট – ২
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। সোমবার যারা কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গল বনাম নর্থইস্ট খেলাটা দেখতে উপস্থিত ছিলেন তারা সাক্ষী থাকলেন একটি ঐতিহাসিক ম্যাচের। এবারের আইএফএ শিল্ডে কাস্টম দলের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব ৭ গোলে জিতেছিল। এবার ইস্টবেঙ্গল ৭ গোলে পূর্ণ করল আলাদিনের নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে। লাল হলুদের পক্ষে ব্যবধান ৭-২। স্কোর লাইন দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেলাটা কিরকম হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে খেলা শুরুর দু মিনিটের মধ্যে এগিয়ে গিয়েছিল পাহাড়ের দলটি। লাল হলুদ ডিফেন্সের ভুলে গোল করে গেলেন আলাদিন আজারাই। এই গোলটা যেন ইস্টবেঙ্গলের আত্মসম্মানে আঘাত করল। যেন ঘুমিয়ে থাকা সিংহ জেগে উঠল। আর বাকি সময়টা ছিন্নভিন্ন করে দিল জন আব্রাহামের দলকে। এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলে নর্থইস্ট ইউনাইটেড যথেষ্ট সমীহ করার মত দল।
দু’বছর আগেই তারা ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহনবাগানকে হারিয়ে। দীর্ঘদিন ভালো কোচ বানোলি দায়িত্বে আছেন। জিটিন, দীনেশ, আব্দুল রবি থেকে শুরু করে তিনজন ভালো বিদেশি রয়েছে দলটায়। এর আগে যতবার মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলেছে তারা এত বড় মার্জিনে কখনও হারেনি। তাই আজ নর্থইস্ট দলটার ইতিহাসে একটা লজ্জাজনক সন্ধ্যা। আর লোপেজ হাবাসের ইস্টবেঙ্গল দেখাল তারা এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলে যে কোনও দলকে চূর্ণ করতে পারে। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে যেমন মোহনবাগানকে ৪ গোল দিয়েছিল তারা, আজ সেভাবেই নিজেদের ডিফেন্স শক্ত রেখে কাউন্টার আক্রমণ নির্ভর খেলা খেলে বিপক্ষ দলের টুটি চিপে দিল তারা। আইএফএ শিল্ডের মতো ডুরান্ড ফাইনালেও ফের ডার্বি। আগের দিন মোহনবাগানের হতশ্রী ফুটবলের পর এদিন লাল-হলুদ ঝড়। শিল্ড ফাইনালেও একতরফা লড়াই হবে না তো? আজকের ম্যাচ দেখার পর এই প্রশ্নটা অবান্তর মনে হচ্ছে না। যদিও ফাইনালে জাতীয় দলে খেলতে যাওয়া দুই দলের ফুটবলাররা ফিরে আসবেন, কিন্তু তাতেও মোহনবাগানের থেকে বোঝাপড়ায় অনেক এগিয়ে লাল হলুদ। সত্যি কথা বলতে ম্যাকলরেন চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার পর মোহনবাগানের হাতে বিদেশি স্ট্রাইকার বলতে শুধুমাত্র লি আরউইন। আজ ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় পাওনা স্ট্রাইকার ডেভিডের হ্যাটট্রিক। তাকে যেভাবে বসিয়ে রেখে জং ধরিয়ে দিয়েছিলেন আগের কোচ অস্কার, সেটা হাবাস দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত তাকে ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস এবং ছন্দ ফিরিয়ে দিয়েছেন।
আজ যেভাবে তিনটি গোল করলেন মিজোরামের স্ট্রাইকার তাতে পুরনো ডেভিদের ঝলক দেখা যায়। গোল পেলেন ক্রিস ইকোনোমিডিস। নতুন দুই বিদেশি একে লোবা এবং লুকাসও গোল করেছেন। হাবাস নিজের রিজার্ভ বেঞ্চ পরীক্ষা করে নিলেন। হাবাস প্রথম একাদশে রাখেননি মহম্মদ রশিদকে। তাকে নামানো হল শেষ ১৫-২০ মিনিট আগে। আজ অসাধারণ ফুটবল খেলেছেন বিষ্ণু। তার দৌড় এবং স্কিল আটকাতে হিমশিম খেতে হল প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের। ডুরান্ড ফাইনালটা সুখকর হয়নি মোহনবাগান জনতার। এটা ঠিক যে, ডার্বির ভবিষ্যদ্বাণী হয় না। কিন্তু সেমিতে মোহনবাগানকে বাঁচিয়েছে গোলকিপার বিশাল কাইথের হাত। আর সেখানে ইস্টবেঙ্গলের ‘সাত তারা’ পারফরম্যান্স। বাগান সমর্থকদের চিন্তা বাড়বে সন্দেহ নেই। তবে ফুটবলে অনেক অংক সম্ভব। খেলা দেখে এই মুহূর্তে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল অনেক এগিয়ে থেকে শুরু করবে সেটা মনে হচ্ছে। তবে মোহনবাগান যদি খেলাটা অতিরিক্ত সময় নিয়ে যেতে পারে, তাহলে টাইব্রেকারে বিশালের হাত আবার তাদের বাঁচিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দলগত বোঝাপড়ায় এবং খেলার মাপকাঠিতে এই মুহূর্তে অনেক এগিয়ে হাবাসের দল।




