৩৬৫ দিন। আমেরিকার মাটিতে কি আবার ৯/১১ ধাঁচে হামলা হবে? ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার কথা উল্লেখ করে মার্কিন এবং ইজরায়েলি বিমান লক্ষ্য করে অনুরূপ আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদা! নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে আল কায়েদার এই হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ফ্লাইদুবাই বিমান কাণ্ডের প্রশংসাও করেছে আল কায়েদা। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল কায়েদাপন্থী সমর্থকেরা জুলাই মাস থেকে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করছে। সেই পত্রিকার সর্বশেষ সংস্করণে আল কায়েদার নয়া হুমকি এবং ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডের প্রশংসার কথা জানানো হয়েছে। আল কায়েদাপন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলিতেও ওই বক্তব্য ছড়ানো হয়েছিল বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। পরে সেই পোস্টগুলি মুছে দেওয়া হয়। আরবি ভাষায় লেখা সাপ্তাহিক পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে মার্কিন এবং ইজরায়েলি বিমানে হামলার কথা জানানো হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। শয়তান আমেরিকান এবং ইজরায়েলিদের বহনকারী বিমান এখনও আকাশে উড়ছে। তবে সেগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যেমনটা ১১ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটেছিল!’’ ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে ৯/১১ হামলার পর বিধ্বস্ত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
এ-ও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘এমন দিন আসবে, যে দিন শয়তান আমেরিকান সাম্রাজ্যের পতন ঘটবে।’’ গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজডে ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভে যাচ্ছিল। অভিযোগ, বিমান যখন প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, তখন ককপিটে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের কুঠার দিয়ে আঘাত করেন সহ-পাইলট। শুধু তা-ই নয়, সহ-পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বা হাইজ্যাকের চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হয়েও বিমানের পুরো নিয়ন্ত্রণ সহকারী চালককে নিতে দেননি ভারতীয় পাইলট স্মিত। তিনি কোনও মতে ককপিটের দরজা খুলে দেন। তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডের সঙ্গে আল কায়েদার কোনও সাংগঠনিক বা প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তার প্রমাণ এখনও মেলেনি।ঘটনার তদন্ত চলছে। যদিও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ফ্লাইদুবাইয়ের আক্রমণকারী সেই সহকারী পাইলট ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত। হামলার জন্য দায়ীদের চরম মূল্য চোকাতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শুধু নেতানিয়াহু নন, ইতিমধ্যে অনেকেই ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডের নেপথ্যে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের যোগের কথাও বলছেন। বিমান ক্র্যাশ করানোর প্ল্যানই ছিল, স্বীকারোক্তি খুনি পাইলটের নিজের কৃতকর্মের জন্য কোনও অনুশোচনা নেই। বরং তাঁর স্বীকারোক্তি থেকে স্পষ্ট, যা ঘটিয়েছেন ইচ্ছাকৃত ভাবে, জেনেবুঝে! ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নিরাপত্তাকর্মীদের হেফাজতে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বিমানের অভিযুক্ত পাইলট হামাম আল-হাম্মামি জানিয়েছেন, তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না।
এ-ও জানিয়েছেন, তিনি চেয়েছিলেন বিমানটিকে ‘ক্র্যাশ’ করাতে! ২৯ বছর বয়সি হামাম ওমানের বাসিন্দা। তিনি কী ভাবে ইসলামপন্থী উগ্রবাদে দীক্ষিত হয়ে উঠলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আগেই তাঁকে নিষিদ্ধ করেছিল ওমান। নেপথ্যে তাঁর উগ্র ও কট্টরপন্থী মতাদর্শ। হামাম তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ওমান এয়ারে। পরে সেই সংস্থা তাঁকে নিষিদ্ধ করার পর দুবাইয়ের বিমানসংস্থায় যোগ দেন। কেন হামামকে ফ্লাইদুবাইয়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।হামামের অতীত জীবন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ওই পাইলটের কট্টরপন্থী মতাদর্শের কথা জানাজানির পর সতর্ক করা হয়েছিল। বিমান ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারির পর তাঁকে ডেস্কে কাজ দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, উগ্রবাদবিরোধী অভিযানেও শামিল করানো হয় হামামকে। তবে তার পরেও ওই পাইলটের মানসিকতার কোনও পরিবর্তন না-হওয়ায় চাকরি খোয়ান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পান হামাম। মাঝে একটা সময় হামাম সিরিয়ায় কাটিয়েছেন। সেই সময়ে তাঁর গতিবিধি কী ছিল, তা নজরে রয়েছে তদন্তকারীদের। এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে, হামামের বাবা ওমানি। তাঁর মা সিরিয়ার বাসিন্দা। যৌবনে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছিলেন হামাম। সেই সময়েই তাঁর মনে ইসলামপন্থী উগ্রবাদের জন্ম হয়েছিল কি না, তা যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে হামামের সমাজমাধ্যমের জীবনও। জানা গিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে ওঠার আগে অনেকটা সময় তিনি কাটিয়েছিলেন সমাজমাধ্যমে। পরে জানা যায়, হামাম তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টও ডিলিট করে দেন। সেই অ্যাকাউন্ট আবার চালু করে হামামের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে একটা ধারণা সুস্পষ্ট করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জানতে পেরেছেন, সৌদির মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্টও খুলেছিলেন হামাম।গত বুধবার সকালে ১৮০ জন যাত্রীকে নিয়ে দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাই সংস্থার বিমানটি। বিমান চালাচ্ছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। সহকারী পাইলটের দায়িত্বে ছিলেন হামাম। অভিযোগ, বিমান মাঝ-আকাশে থাকাকালীন ককপিটের ভিতরে স্মিতকে আক্রমণ করেন তিনি। এর ফলে বিমান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। পরে যাত্রী এবং বিমানের অন্য কর্মীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্তকে বাধা দেন এবং জখম ক্যাপ্টেনকে উদ্ধার করেন। বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। একে ‘হাইজ্যাকের চেষ্টা’ হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ। সেই সম্ভাবনা যে সত্যিই তা স্বীকার করেছেন হামাম, দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন।
খুনি পাইলট হাম্মামের স্বীকারোক্তি, বিমান ক্র্যাশ করাতে চেয়েছিল
- khabar365din
- October 6, 2026
- 1:21 pm
- No Comments




