দুর্গা পুজোয় পদ্মের যোগান দিয়ে হাসি ফুটেছে বাগনানের দুলর্ভপুরের পদ্মফুল চাষীদের মুখে

৩৬৫ দিন । পাপ্পা গুহ। পুজো আসছে। আর কয়েকদিন পরেই পুজোর আনন্দে গা ভাসাবে আট থেকে আশি সকলে। আর এই দুর্গা পুজোয় ফুলের চাহিদা বাড়ায় হাসি ফুটেছে বাগনানের দুর্লভপুরের পদ্ম চাষীদের মুখে। চিরাচিরত ধান চাষের পরিবর্তে গত কয়েকবছর জমিতে পদ্ম চাষ করছে এখানকার অধিকাংশ চাষী। ধানের থেকে পদ্ম বিক্রিতে লাভ বেশী হওয়ায় খুশী চাষীরা। দুর্গা পুজোর সন্ধি পুজোয় ১০৮ পদ্মফুল নিবেদন করার বিশেষ রীতি আছে। সারা বছর পদ্ম ফুলের একটা চাহিদা থাকলেও দুর্গা পুজোর সময় পদ্মফুলের চাহিদা আকাশছোঁওয়া হয়। বাজারে দাম ও অনেকটাই বেড়ে যায়। সাধারনত ঝিল বা জলাশয়ে পদ্ম চাষ হলেও দুর্গা পুজোর সময় পদ্মের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিকল্প চাষ হিসাবে গত কয়েকবছর ধরে জমিতে পদ্মফুলের চাষ হচ্ছে। সেইরকম বাগনানের দুর্লভপুরের আধিকাংশ জমিতে এখন পদ্ম ফুল চাষ হচ্ছে। সাধারনত চৈত্র বৈশাখ মাসে জমিতে জমিতে পদ্মের চাষ শুরু করার ৩/৪ মাসের পর থেকে ফুল পাওয়া শুরু হয়। আবার শিশির পড়া শুরু হলে ফুলফোটা বন্ধ হয়ে যায় পাশাপাশি গাছ ও নষ্ট হয়ে যায়। দুর্লভপুরের চাষীদের মতে আগে জমিতে ধান চাষ করে যে পরিমান লাভ হত এখন সেখানে পদ্মফুল চাষ করে অনেক বেশী লাভ হচ্ছে্। তাদের মতে এখন বাজারে ৪/৫ টাকা প্রতি পিস বিক্রি হলেও পুজো যত এগিয়ে আসবে তত ফুলের দাম বাড়বে। পুজোর সময় প্রতিপিস পদ্মের দাম ২০/২৫ টাকায় পৌছাবে। এলাকার ফুল চাষীদের মতে দুর্গা পুজোর সময় আগেপদ্মের চাহিদা মেটাতে উড়িষ্যার পদ্ম বাজারে আসত। কিন্তু জমিতে পদ্মের চাষ শুরু হওয়ার পর থেকে সেটা অনেকটাই কমেছে। তাদের মতে উড়িষার পদ্মফুলের তুলনায় ছোট ও সরু হওয়ায় এই রাজ্যের পদ্মফুল প্রথম পচ্ছন্দ পুজো উদোক্তাদের। আর সেই কারনে পুজোর সময় এখানকার পদ্মফুলের চাহিদাও বাড়ে এবং দাম ও বাড়ে।

Scroll to Top