খাসির মাংসের নামে বিড়ালের মাংস! গঙ্গারামপুরের রেস্তোরাঁ সিল করল পুলিশ

৩৬৫ দিন। খাসির মাংসের নামে দেওয়া হচ্ছে বিড়ালের মাংস! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ গঙ্গারামপুরের এক রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে। আপাতত ওই রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।‌ ফুড লাইসেন্স‌ না থাকায় ওই রেস্তারাঁ মালিকের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে নোটিশ। তবে ওই ব্যক্তি বিড়ালের মাংস সত্যিই বেচছিলেন কি না সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, গঙ্গারামপুর নিউ মার্কেটের ফুটপাতে একটি খাবারের দোকান চালান বাঞ্চা কুন্ডু নামে এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার রাতে তার দোকানে খেতে গিয়েছিলেন ডিটল হাট এলাকার বাসিন্দা অমিত সরকার। পোলাওয়ের সঙ্গে খাসির মাংস অর্ডার দেন তিনি।
কিন্তু খাবার খেতে গিয়ে সন্দেহ হয় অমিতের। বিশেষ করে মাংস খেতে গিয়ে তিনি দেখেন স্বাদ ঠিক খাসির মাংসের মতোন নয়। এ ব্যাপারে তিনি রেস্তারাঁর কর্মী ও মালিককে অভিযোগ জানালে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হলে ভিড় জমে যায়। খবর যায় পুলিশে। পুলিশ এসে বাঞ্চা নামে রেস্তোরাঁ মালিকের কাছে ফুড লাইসেন্স‌ দেখতে চায় যদিও সেই নথি সে দেখাতে পারেনি। এরপরেই রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। আটক করা হয় বাঞ্চাকে। খবর দেওয়া হয় ফুড সেফটি অফিসারদের। তাদের কাছে অমিত অভিযোগ করেন খাসির মাংসের নাম করে বিড়ালের মাংস খাওয়ানো হচ্ছিল।
তাকে যে মাংস দেওয়া‌ হয়েছিল তার নমুনা সংগ্রহ করে কলকাতায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় পাশাপাশি ওই রেস্তারাঁর ফ্রিজারে আরো যে মাংসের নমুনা ছিল সেগুলিও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই  রিপোর্ট হাতে এলে জানা যাবে সত্যিই বিড়ালের মাংস খাওয়ানো হচ্ছিল কি না। জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, যে রেস্তোরাঁর খাবার নিয়ে অভিযোগ কয়েকদিন আগেই সেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল। রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের অ স্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। দ্রুত ফুড লাইসেন্সের জন্য আবেদন জানাতেও বলা হয়। তার মধ্যেই এবার বিড়ালের মাংস দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল। তবে হোটেলের মালিক বাঞ্চা বলছেন, সবটাই চক্রান্ত। তিনি খাসির মাংস-ই দিয়েছিলেন। দাম মেটাতে বলায় মিথ্যে কথা বলে গুজব রটানো হয়েছে। তার পাল্টা প্রশ্ন, ওই এক মাংস তো আরো অনেকে খেয়েছেন তারা তো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি?

Scroll to Top