৩৬৫ দিন। ২৯ বছরের দেইসি আলেজান্দ্রা ওমানা অর্টিজ, তিনি এখন কলম্বিয়ার যুব সমাজের কাছে সেনসেশন। রাজনীতির ময়দানে তার উত্থান নিয়ে বিরোধীদের কিৎসা উড়িয়ে দিয়ে তাকে বিপুল ভোট জিতিয়ে সিনেটর পদে নিয়ে এসেছে তরুণ প্রজন্ম। হোক না তিনি পর্ন স্টার। প্রাপ্তবয়স্ক ছবির জগতে বিপুল সাফল্য তিনি পেতেই পারেন,তাতে কি আসে যায়। কি পেশায় তিনি আছেন,সেটা বড় কথা নয়,আসল বিষয়টা হল তিনি সৎ। শপথ অনুষ্ঠানে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে তিনি যখন বলেছেন, বেশ করেছি পর্নগ্রাফিতে কাজ করেছি। পঙ্গু বাবা, মা, ছোট বোনের খরচ চালাতে আর কোনও উপায় ছিল না। চাইলে ড্রাগ বেচতে পারতাম।সেখানে আরও টাকা। কিন্তু যায়নি। শরীর বেঁচেছি,বেশ করেছি। ৩৫ বছর কারখানায় কাজ করার পর,আমার পঙ্গু বাবা যেটুকু পেনশন পেতেন,সেটা দিয়ে দিনে একবার বড়জোর রুটি কিনতে পারতাম।আপনার সরকার আমায় যোগ্যতা সত্ত্বেও কাজ দিতে ব্যর্থ। কেন সরকার দেশের দরিদ্র মানুষকে রেশন দেবে না? কেন এডুকেশন এত ব্যয়বহুল! বোনের স্কুলের খরচ কীভাবে চালাবো? যারা পার্লামেন্টে আমায় সহকর্মী বলতে লজ্জা পাচ্ছেন,পাশে বসতে দ্বিধা বোধ করছেন,তাদের ধিক্কার । রাত্রে এরাই আমার পর্ন দেখেন। ওর এই জ্বালাময়ী বক্তব্য কলম্বিয়ার ২৭ লক্ষ মানুষ টেলিভিশনে দেখে। পার্লামেন্টের ২৫৬ জন সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে স্ট্যান্ডিং অবেশন দেয়।।দেশের যুব সমাজ তাকে এই কারণেই মেনে নিয়েছে। লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার এমনিতেই বদনাম, এখানকার রাজনীতিকরা দুর্নীতিগ্রস্থ এবং ড্রাগ মাফিয়াদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মুখোশ পড়া রাজনীতিকদের কড়া জবাব দিয়েছে দেশের মানুষ।।অন্তত নিজের পেশা লুকিয়ে রাজনীতিতে তিনি আসেননি। পর্ন তারকা হয়েও নিজের উপার্জনের বড় অংশ ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ব্যয় করেন। কারণ তিনি তার ছোট ভাইকে হারিয়েছিলেন,এই মাদকের নেশার জন্যই। একসময় ছিলেন দুঁদে সাংবাদিক। হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর যুক্ত হন পর্নোজগতে।
নিজের বাবা মা বোন ভাইদের পেট চালাতেই পর্ন গ্রাফির জগৎ বেছে নেন। সেখানেও জনপ্রিয় হন। হয়ে ওঠেন জনপ্রিয় তারকাদের একজন। সেই জগতের আলোর ঝলকানিও বেশি দিন টানেনি। সব ছেড়েছুড়ে যোগ দেন রাজনীতিতে। বলা হয়, রাজনীতির পথ বেশ বন্ধুর। সেটাও সফলভাবে উতরে গেছেন তিনি। রাজপথ থেকে পৌঁছে গেছেন পার্লামেন্টে। এখন তিনি সিনেটর।
পেশাজীবনে এ চড়াই–উতরাইয়ের গল্পটা দেইসি আলেজান্দ্রা ওমানা অর্টিজের। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার একজন বামপন্থী রাজনীতিক তিনি। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টের সিনেটর নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছেন। দেশে–বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দেইসির নাম।রাজধানী বোগোতায় স্থানীয় সময় গত সোমবার বামপন্থী রাজনৈতিক দল হিস্টোরিক প্যাক্ট ফর কলম্বিয়ার হয়ে সিনেটর পদে শপথ নিয়েছেন দেইসি। দেইসির বয়স এখন ২৯ বছর। সাংবাদিকতা ছেড়ে ২০১৭ সালে পর্নোজগতে প্রবেশ তাঁর। সেখানে আমারান্তা হাঙ্ক নামে পরিচিত ছিলেন। বছর দুয়েকের মাথায় তারকাখ্যাতি ছেড়ে দেইসি রাজপথের রাজনীতি বেছে নেন। পুরোদস্তুর রাজনীতিক বনে যান। এখন প্রাপ্তবয়স্কদের সিনেমা নির্মাণে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করতে লড়ছেন।গত মার্চে কলম্বিয়ার নর্তে দে সান্তান্দার অঞ্চল থেকে সিনেটর নির্বাচিত হন দেইসি। সোমবার শপথ নিলেন। দেইসি মনে করেন, প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্পে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য কোম্পানি ও এজেন্সির শোষণ থেকে রক্ষা পেতে আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন।
কলম্বিয়ার পার্লামেন্টে স্ট্যান্ডিং ওভেশন আলেজান্দ্রাকে





