৩৬৫ দিন। শিলিগুড়ি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডুয়ার্স সফরের মাঝে বিশেষ সাক্ষাৎ বিমল গুরুংয়ের। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দুই দশক পূর্তির প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশেষ অতিথি হিসেবে পাহাড়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী।মঙ্গলবার ডুয়ার্স সফরের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করে বিশেষ ভাবে আমন্ত্রণ জানালেন গোর্খা জন মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিমল গুরুং এবং সম্পাদক রোশন গিরি। ৭ই অক্টোবর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কুড়ি তম প্রতিষ্ঠা দিবস। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। বিমল গুরুংয়ের দলের পাহাড়ে কুড়ি’তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন মঞ্চে থাকবেন বিশেষ অতিথি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী। চলতি মাসেই পাহাড় শহরে এসে মুখ্যমন্ত্রী সে কথা জানিয়েদেন। কালিম্পং এর একটি সরকারি অনুষ্ঠানে আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে যোগ দিতে না পারায় আক্ষেপ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান তিনি দ্রুত পাহাড়ে ফিরছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে। সেই সময়তেই পাহাড়বাসীদের সঙ্গে পুনরায় দেখা হবে সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।এদিন কোচবিহার আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্সে একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে দিনভর ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী। তারমাঝেই ডুয়ার্সে সাক্ষাৎ করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দলের প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী হাতে। গোর্খা জন মুক্তি মোর্চার তরফে জানানো হয়-আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দার্জিলিঙের পবিত্র ভূমিতে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পেরে তাঁরা ভীষণভাবে আপ্লুত। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সম্পাদক রোশন গিরি বলেন-প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সভাপতি বিমল গুরুং। তিনি বলেন দলের দুই দশক পূর্তির এই অনুষ্ঠান পাহাড়ের বুকে বর্নাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হবে। এই অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে আমরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে আহ্বান জানিয়েছি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি ৭ই অক্টোবরের আমাদের দলের উদযাপনের এই উৎকৃষ্ট দিনে পাহাড়ে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন তিনি।তাঁর উপস্থিতি এই অনুষ্ঠান আলোকিমন্ডিত হয়ে উঠবে। এটা শুধু দলের নয় পাহাড়বাসীর কাছে মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি অন্য মাত্রা পৌঁছে দেবে।গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দুই দশক পূর্তি প্রতিষ্ঠা দিবসের উদযাপন অনুষ্ঠানে জাঁকজমক এর সঙ্গে গোর্খা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হবে। ২০০৭সালের ৭ই অক্টোবর বিপ্লবী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের বুকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন বিমল গুরুঙ ও সম্পাদক রোশন গিরি। ইতিহাসের পাতা উল্টে দুই দশক পেছনে ফিরে তাঁকালে উঠে আসে পাহাড়ের বুকে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন। পাহাড় ভূমিতে সুভাষ ঘিসিং-র সঙ্গে বিমল শিবিরের তীব্র মতভেদে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আত্মপ্রকাশ।
বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে সোনি টিভি পরিচালিত এক সঙ্গীত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড়ের বুকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গড়ে ওঠে। বিপ্লবী অভ্যুত্থান থেকে পুলিশের সঙ্গে খন্ড যুদ্ধ চলে, পূর্বতন তৃণমূল তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়। টানা ১০৪দিনের পাহাড় বনধ থেকে অগ্নিগর্ভ আন্দোলনে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে পাহাড়। তৎকালীন সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী বিক্ষোভ কারীদের গুলিতে এক পুলিশ এসআইয়ের মৃত্যু হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডুয়ার্স সফরের মাঝে বিশেষ সাক্ষাৎ বিমল গুরুংয়ের




