৩৬৫ দিন। বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বতী নির্দেশে জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মমতা এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীরা কে কোন প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়বেন। দুই তৃণমূলের নতুন নামও দেওয়া হয়ে গিয়েছে।কিন্তু এর মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নন্দীগ্রামে যাঁকে প্রার্থী করেছে,সেই সঞ্চিতা প্রধান দে হঠাৎ পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে।পরে তিনি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নও তুলে নিলেন। সূত্রের খবর,অত্যন্ত গোপনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন সঞ্চিতা। কোথায় যাচ্ছেন, কী পরিকল্পনা, আগে থেকে কাউকে জানতে দেননি। সকালের দিকে নন্দীগ্রাম থেকে তিনি যখন বেরোচ্ছেন, তখনও তাঁর মুখে ছিল কুলুপ আঁটা। পরে জানা যায়, সঞ্চিতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
প্রকাশ্যে তিনি কিছু বলেননি। তবে সূত্রের দাবি, আগের দিন মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলেন মমতার মনোনীত প্রার্থী।প্রার্থী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ায় কালীঘাট শিবির স্বভাবতই অস্বস্তিতে। তিনি বলেন,এখানে দুটো বিষয় আছে। এক, উনি চাপ সহ্য করতে পারেননি। দুই, নন্দীগ্রামে আমাদের সংগঠন দুর্বল। ফলে সেখানে নেতৃত্বের নজরদারি, প্রার্থীকে আগলে রাখার যে বিষয় ছিল, তা হয়নি।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু। দু’টি কেন্দ্রে জেতার পর নন্দীগ্রাম ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তাই সেখানে উপনির্বাচন করাতে হচ্ছে কমিশনকে।
একই ভাবে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নওদায় লড়ে দুটিতেই জেতেন হুমায়ুন কবীর। তিনি রেজিনগর কেন্দ্র ছেড়ে দিয়েছেন। এই দুই কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ৯ অক্টোবর হবে ভোটগণনা। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার দুদিনের মাথায় খুন হন চন্দ্রনাথ। ভোটে হারার পর তৃণমূলে ভাঙন স্পষ্ট হয়। মমতার নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে পৃথক শিবির গঠন করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুই শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্বের মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বতী নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। মমতার হাতে আঁকা জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। কোনও পক্ষই ওই প্রতীকে লড়তে পারবে না উপনির্বাচন।
নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন


