৩৬৫দিন। AITC তৃণমূলের নতুন নামে একটি শব্দ জুড়ল মমতা। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস আপাতত অস্থায়ী প্রতীক হিসেবে সাইকেল প্রতীককে নিয়ে লড়বে ৩৬৫ দিন। তৃণমূলের নাম পরিবর্তনের প্রতীক আটকে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মমতার নিজের হাতে আঁকা জোড়া ফুল প্রতীক আপাতত আর ব্যবহার করতে পারবেন না তিনি। এই নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে এক সারিতে রেখে আক্রমণ শানালো বিরোধীরা। তাদের প্রশ্ন—রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক হল দর্পণের মতো। তার পরিচয়, নীতি, আদর্শ, মূল্যবোধের প্রতিচ্ছবি সেখানে ফুটে ওঠে। তাই নাম ও প্রতীক যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তবে তো সেই দলকে রাজনৈতিকভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি কি তাহলে এটাই চাইছে যে দেশে আর কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দল থাকবে না?
শিবসেনা, এনসিপি-র পর তৃণমূলকে টার্গেট করা হল। কাল আরও অন্য দলকে করা হবে? রাহুল গান্ধী তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী লেখেন—একটা ধারাবাহিক প্যাটার্ন লক্ষ্য করছি, যেখানে বিজেপি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে ভাঙন ধরাচ্ছে। তারপর ওই রাজনৈতিক দলের প্রতীক আটকে দিচ্ছে—প্রথমে শিবসেনা, তারপর এনসিপি, আর এখন তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটানোর এবং সেই অধিকার সংরক্ষণের। কিন্তু যে ভাবে রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে বা বলা ভালো কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে তা দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়াবহ এবং ভবিষ্যতের জন্য ভয়ঙ্কর চিন্তার বিষয়।
এই লড়াই শুধু মমতার নয়। এই লড়াই তার চাইতেও অনেক বড়। দেশের সমস্ত গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ রাজনৈতিক দলকে এই অশুভ প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। কেসি বেণুগোপাল এআইসিসি হ্যান্ডেলে কংগ্রেস মুখপাত্র কেসি বেণুগোপাল লিখেছেন—অসাংবিধানিকভাবে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করা হল—এটা কি জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের জন্মদিনের উপহার? এই সেই দিন পর্যন্ত যারা মমতার নেতৃত্বে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করল, তাদের বিজেপির দেওয়া রেড কার্পেট ব্যবহার করে মমতার দলের নাম ও প্রতীক ছিনিয়ে নিল—এটা ঘোরতর অসাংবিধানিক এবং পাপ। বেণুগোপালের মতে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন আবার প্রমাণ করে দিল তারা বিজেপির হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে এবং বিজেপি তাদের সামনে রেখে দেশের গণতন্ত্রকে তিলে তিলে ধ্বংস করছে। যারাই বিজেপির বিরোধিতা করবে, তাদের ওপরেই মারাত্মক আঘাত নেমে আসবে—এমন আঘাত যে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বই ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এক জিনিস আমরা শিবসেনা-এনসিপি-র ক্ষেত্রে দেখেছি, আর এখন দেখছি তৃণমূলের ক্ষেত্রে। বেণুগোপালের দাবি—জাতীয় নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে মমতাকে তাঁর দল তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক ফিরিয়ে দিক।
পবন খেরা তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন পবন খেরা। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন—তৃণমূলের নাম ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া কোনো সুবিচার নয়। নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করছে না। এটা তাদের বিচ্যুতি। আইন বলছে, তৃণমূলের যে অংশ মূল দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তাদের দলের নাম ও প্রতীক পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। দলের নাম ও প্রতীক আইনত মমতার প্রাপ্য।




