৩৬৫ দিন। নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমর্থন জানানো হবে বলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরনো মামলায় গ্রেফতার হলেন মিলন প্রধান। দীর্ঘ ১৯ বছর আগের, অর্থাৎ ২০০৭ সালের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সূত্রে। তবে এইভাবে মমতা সমর্থনের ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতারের ঘটনায় বিজেপি আসলে বিরোধী মুক্ত ভারতবর্ষ তৈরি করতে চাইছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র মিতা চক্রবর্তীও অভিযোগ করেছেন—যেই মাত্র রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন, তাঁর দল কংগ্রেসকে সমর্থন করবে, সঙ্গে সঙ্গেই এই গ্রেফতারি। যাতে প্রমাণ হয়, রাজ্যে পুরোপুরি দমন-পীড়ন চলছে। কিন্তু আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, এভাবে কংগ্রেসকে রাজ্যে দমিয়ে রাখা যাবে না। কী ঘটেছে, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু পুরনো একটি খুনের মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে নাম জড়িয়েছিল নন্দীগ্রামের এই কংগ্রেস প্রার্থীর। এমনকি তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা বা ওয়ারেন্টও জারি করা হয়েছিল। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের ঘোষণা হওয়ার ঠিক পরেই সেই পুরনো মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে। আগামীকাল শনিবারই তমলুক আদালতে কংগ্রেস প্রার্থীকে হাজির করানোর কথা রয়েছে।
তীব্র প্রতিবাদ
এআইসিসির পক্ষ থেকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কেশী বেণুগোপাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যেভাবে কংগ্রেস প্রার্থীকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের পুলিশ গ্রেফতার করল, তাতে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিজেপি ভয় পেয়েছে। গোটা দেশজুড়ে বিজেপি আসলে বিরোধী-মুক্ত ভারতবর্ষ গড়ে তোলার জন্য যাবতীয় রাষ্ট্রীয় শক্তিকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করছে।
২০০৭ সালের একটি পুরনো মামলাকে সামনে রেখে হঠাৎ করে, প্রায় ১৯ বছর পর নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হলো। সেই ঘটনায় নিন্দা জানানোর কোনো ভাষা নেই। অন্যদিকে, এই ঘটনার পরেই জরুরি ভিত্তিতে প্রেস কনফারেন্স ডেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ফোন ধরছেন না আমাদের নন্দীগ্রামের প্রার্থী। কিছুক্ষণ আগে আমায় বলেছিল, ওরা আমায় কিডন্যাপ বা এসব করতে পারে। আমি তাই অন্য ব্যবস্থা করছিলাম। কিন্তু ইতিমধ্যেই দেখা গেছে, তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর সঙ্গে আরও দুজনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচনে এদের কাউকে লড়াই করতে দেব না। যদি বলে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে কেস আছে—তা এতদিন ঘুরছিল, আপনাদের কারও কিছু মনে হয়নি। প্রার্থী হয়ে গেল, ব্যাস। এখন কোনো প্রেসার দিয়ে, কী দিয়ে কী করবে—তার কোনো ঠিকানা নেই। নির্বাচন মানে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। বিজেপির এই আগ্রাসী মনোভাব—এতে গণতন্ত্র বাঁচবে কী করে? অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না? মাল্টি-পার্টি সিস্টেম থাকবে না? তার মানে ওয়ান পার্টি। ওয়ান নেশন, ওয়ান ভোট, অ্যান্ড ওয়ান পার্টি।
ভেবির হিটলারিয়ানিস্টিক তীব্র নিন্দা কুনালে
মিলন প্রধানের গ্রেফতারির পর কুনাল ঘোষ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করার পরেই বিজেপি সরকার সেই কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করল। আমাদের নেত্রী ও দল এই গ্রেফতারির কড়া নিন্দা করেছেন। এটা ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী আচরণ। বিজেপির আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট। পুলিশের পুরো দপ্তরের অপব্যবহার চলছে। নেত্রীর সমর্থন ঘোষণা হওয়ার পর কংগ্রেস প্রার্থী আরও শক্তিশালী হয়ে আসনটি বিজেপির হাতছাড়া হতে পারে—সেই আতঙ্ক থেকেই এই গ্রেফতারি। আমরা অবিলম্বে প্রার্থীর মুক্তির দাবি করছি। বিজেপি সরকারের মুখোশ খুলে গেছে। মানুষের ওপর এদের আস্থা ছিল না, এখনও নেই। তাই পুলিশের রাজ্যে দমন-পীড়নের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।




