নয়াগ্রামের লাইফলাইন কার্যত স্তব্ধ, প্রতিশ্রুতি সার হলেও মিলছে না সরকারি বাস

৩৬৫ দিন। অশোক কুমার মণ্ডল।ঝাড়গ্রাম। তিন দিক ঘিরে রেখেছে সুবর্ণরেখা নদী, আর অন্য প্রান্তে প্রতিবেশী ওড়িশা সীমানা। ঝাড়গ্রাম জেলার ভৌগোলিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন ও প্রত্যন্ত নয়াগ্রাম ব্লকের সাধারণ মানুষের এখন অন্যতম প্রধান দুর্ভোগের কারণ সরকারি গণপরিবহনের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি। একসময় জঙ্গলকন্যা সেতু তৈরি হওয়ার আগে, যখন ভাসরাঘাট  কাঠের ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজই ছিল ভরসা, তখনও প্রায় দেড় দশক ধরে একটানা চলেছে কলকাতা-ধুমসাই রুটের সরকারি বাস। কলকাতার সঙ্গে প্রত্যন্ত জঙ্গলমহলের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল সেই পরিষেবা। কিন্তু আজ সেই চেনা সরকারি বাস পুরোপুরি উধাও। শুধু তাই নয়, ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ট্রানজিট পয়েন্ট খড়িকামাথানি থেকে মেদিনীপুর কিংবা জেলা সদর ঝাড়গ্রামগামী যে বাসগুলি দিনে দুই থেকে তিন বার যাতায়াত করত, বর্তমানে সেগুলিও সম্পূর্ণ বন্ধ।
ওড়িশা সীমান্তবর্তী ধুমসাই থেকে নয়াগ্রামের প্রাণকেন্দ্র খড়িকামাথানির উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে পড়ুয়া ও সাধারণ নিত্যযাত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহনই ছিল প্রধান সম্বল। নয়াগ্রামের বর্তমান বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অমিয় কিসকু দায়িত্ব নেওয়ার পর গত জুন মাসে উদ্যোগী হয়ে কলকাতা ও ঝাড়গ্রাম রুটের স্টেট বাস পরিষেবা ফের চালু করিয়েছিলেন। এমনকি কাঁথি, দিঘা এবং দুর্গাপুর রুটেও নয়াগ্রাম থেকে নতুন সরকারি বাস চালানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই উদ্যোগ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জুন মাসের সেই তৎপরতা ফিকে হয়ে আগস্ট পেরিয়ে সেপ্টেম্বর আসতেই দেখা যাচ্ছে, ব্লকের রাস্তা থেকে সরকারি বাস পুরোপুরি গায়েব।রাজ্যের যে হাতে গোনা কয়েকটি ব্লকে এখন কার্যত কোনো সরকারি বাস চলে না, নয়াগ্রাম বর্তমানে তার অন্যতম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো একটি সরকারি বাসও নিয়মিত না চলায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। বেসরকারি বাসের অনিয়মিত সময়সূচি এবং অতিরিক্ত খরচের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে মন্ত্রী অমিয় কিসকু জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সরকারি পরিবহন ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Scroll to Top