৩৬৫ দিন।রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামো ও পূর্বতন সরকারের সমালোচনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের কার্যত কড়া জবাব দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।শনিবার বিকেলে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ এর শিক্ষক দিবসের এক অনুষ্ঠান থেকে নাম না করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করার পাশাপাশি বিজেপিকে প্রচারসর্বস্ব ও সংস্কৃতিহীন দল বলে কড়া আক্রমণ শানান তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, শিক্ষাগুরুরা আজকে অত্যন্ত বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, অত্যাচারিত এবং অসম্মানিত। অথচ যাঁরা আমাদের ছোটবেলা থেকে শিক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের থেকে পাওয়া জ্ঞানই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওনা।সকালে নিউ টাউনে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন যে বিগত তৃণমূল জমানায় শিক্ষাক্ষেত্রে কেবল দুর্নীতি হয়েছে এবং কোনও কাজ হয়নি।এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর পালটা জবাব,আমি সব বিধায়ক ও সাংসদদের সবসময় নির্দেশ দিতাম অন্তত পাঁচটি করে স্কুলের ভবন তৈরি করতে। রাজ্যসভার সাংসদদের তহবিল থেকেও প্রচুর স্কুল বিল্ডিং, অ্যাম্বুলেন্স এবং সিসিটিভি কভারেজ পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। যে কাজগুলি ইতিমধ্যেই করা আছে, সরকার কেবল সেগুলির ঠিকঠাক রক্ষণাবেক্ষণ করলেই অনেক উন্নয়ন সম্ভব।তিনি অভিযোগ করেন, নন্দনের ভিতরে অনুষ্ঠান হচ্ছে, আর সারা চত্বর জুড়ে মাইক লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি তো জীবনে কখনও এমনটা দেখিনি! আমি প্রতি বছর আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব করেছি, কিন্তু কখনও এই ধরনের বিষয় দেখিনি। এরা একটা নীতিহীন, রুচিহীন, শব্দহীন, ভাষাহীন, সংস্কৃতিহীন এবং সম্প্রীতিহীন দল। এরা দেশটাকেও চেনে না, বাংলাটাকেও চেনে না।এরই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যে বর্তমান সরকারের হকার উচ্ছেদ ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বন্ধের নীতি নিয়েও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না করে দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে কেন? হকারদের দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে কেন? আর কেনই বা রাজ্যের নারীদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?”
মাদার টেরেসার প্রয়াণ দিবসে শ্রধার্ঘ্য
এদিন কলকাতার মাদার হাউসে গিয়ে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । শনিবার সকালে এন্টালির আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের মাদার হাউসে পৌঁছে সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি । কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে প্রার্থনাতেও অংশ নেন ।পরে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সুপিরিয়র জেনারেল সিস্টার মেরি জোসেফের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল নেত্রী । মাদার টেরেসার জীবনকে স্মরণ করে মমতা বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সমাজের সবচেয়ে অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি ।কোনও প্রত্যাশা ছাড়াই মানুষের সেবা করার যে দৃষ্টান্ত মাদার রেখে গিয়েছেন, তা আজও গোটা বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা ।
শিক্ষক দিবসে রাজ্য সরকারকে মমতার আক্রমণ
বললেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে স্বৈরচারী আগ্রাসন চলছে’
- khabar365din
- September 5, 2026
- 8:13 pm
- No Comments



