ইস্টবেঙ্গল – ২ খিদিরপুর – ০
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আজ আবার কলকাতা লিগের ম্যাচ ছিল ইস্টবেঙ্গলের। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজেদের মাঠে খিদিরপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচটা যে একেবারে জলের মতো সহজ হবে না এটা জানতেন ইস্টবেঙ্গলের কলকাতা লিগের কোচ অর্চিমান বিশ্বাস। কারণ প্রতিপক্ষ দলের কোচ ইস্টবেঙ্গলর ঘরের ছেলে মেহতাব হোসেন। নিজের ফুটবলার জীবনে যেমন লড়াকু ছিলেন সেভাবেই খিদিরপুর দলটার মধ্যে লড়াই ঢুকিয়ে দিয়েছেন মেহতাব। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খিদিরপুর ড্র করেছিল। দলটার ডিফেন্স বেশ শক্ত। তাই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা আশায় ছিলেন জিতবেন, কিন্তু মনের মধ্যে আবার একটু হলেও সংশয় ছিল মেহতাব কিছু একটা প্রমাণের জন্য নামবেন। শেষ পর্যন্ত খিদিরপুর পরাজিত। ইস্টবেঙ্গলের ঘরে ৩ পয়েন্ট। আসলে এখন ইস্টবেঙ্গলের সময় চলছে। মনে হচ্ছে ফুটবলের ভাগ্যদেবী তাদের প্রতি সদয় হয়েছেন।
ঘরের ক্লাব’ ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নেমেছিলেন লাল-হলুদের ঘরের ছেলে মেহতাব হোসেন। যদিও এবার অন্য ভূমিকায় ফিরলেন। তবে কোচ হিসাবে সুখের হল না বৃহস্পতিবার। কলকাতা ফুটবল লিগে খিদিরপুর এসসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয় তুলে নিল ইস্টবেঙ্গল।ম্যাচের প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। ২৭ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভিতর থেকে দুরন্ত শটে খিদিরপুরের জালে বল জড়িয়ে দেন আকাশ হেমব্রম। ৬৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান বিলাল। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল। শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল লাল-হলুদ। কিন্তু রবি দাসের শট আটকে দেন খিদিরপুরের গোলকিপার অর্নেন্দু। ফিরতি বল থেকেও গোল করতে পারেননি রবি।কলকাতা লিগে মেহতাবের তাঁর দল হেরে গেলেও ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাকে আলাদা করে দেখছেন তিনি। মেহতাবের কথায়, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে কোচিং করানো সবসময়ই স্পেশাল। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল রিজার্ভ দলের সহকারী কোচ অর্চিষ্মান বিশ্বাসের চিন্তার জায়গা ফুটবলারদের সুযোগ নষ্ট করা। ২-০ ব্যবধানে জয় এলেও আরও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা ভাবাচ্ছে লাল-হলুদ শিবিরকে।সোনার সময় চলছে ইস্টবেঙ্গলের। এসিএল ২-র মূল পর্বে, সদ্য ডুরান্ডে চ্যাম্পিয়ন, মেয়েরাও এশিয়ার মঞ্চে দাপাচ্ছে। কলকাতা লিগেও ছুটছে লাল-হলুদ বাহিনীর জয়রথ। গত ম্যাচেই কালীঘাট মিলন সংঘকে হারিয়েছিল লাল-হলুদ। ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মনতোষ মাঝির একমাত্র গোলে জিতেছিল মশাল ব্রিগেড। আর এদিন খিদিরপুরকে হারিয়ে সুপার সিক্স কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল তারা। ১০ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে ভবানীপুর। ৮ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল। ইউনাইটেড কলকাতা চতুর্থ স্থানে। ১০ ম্যাচে ১৬ পয়েন্টে তারা। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে ৩-০ হয়ে যেত রবি দাস যদি পেনাল্টি মিস না করত। তবে এটা নিয়ে চিন্তিত নন ইস্টবেঙ্গল কোচ অথবা ম্যানেজমেন্ট। ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাদের চোখ আবার কলকাতা লিগে। এবার লিগ জিততে পারলে হ্যাটট্রিক হবে লাল হলুদের। এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই ইস্টবেঙ্গলের এই জুনিয়র দলটায় অন্তত চার থেকে পাঁচ জন খুব ভালো ফুটবলার আছে। যেহেতু এরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলছে তাই তন্ময়, আকাশ, বিজয়, আননতুদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া যেমন আছে মাঠের ভেতর, মাঠের বাইরেও একটা টিম স্পিরিট কাজ করে। আর এর সুফলটাই পাচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব।





