তরুণ মৃৎশিল্পী অগ্নিভ-র হাতের দুর্গা প্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে জাপানে

খবর ৩৬৫।বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।নদীয়া: প্রতিভা সবার মধ্যে থাকলেও কারুর প্রকাশ পায় কারুর বিচ্ছুরণ হয়না। নদিয়ার কৃষ্ণনগর মাটির পুতুল ও মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বখ্যাত । সেই ঐতিহ্যের ধারাকে বিশ্বদরবারে আরও এক ধাপ তুললেন কৃষ্ণনগরের নবীন তরুণ মৃৎশিল্পী অগ্নিভ পাল। তাঁর  হাতের নিপুণ জাদুতে তৈরি হয়েছে সুদৃশ্য দুর্গা প্রতিমা। আর এই বছর তার হাতের তৈরি দুর্গা প্রতিমা যাচ্ছে  সুদূর জাপানে । সেই জাপানে পূজিত হতে চলেছে মা দুর্গা। এই সৃষ্টি আন্তর্জাতিক স্তরে  পৌঁছে দেওয়ার তোড়জোর চলছে কৃষ্ণনগরের এই মৃৎশিল্পীর দুর্গা পাঠানোর জন্য। আর এই খবরে কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণিতে তৈরি হয়েছে  আনন্দের পরিবেশ।
নদিয়ার কৃষ্ণনগর ষষ্ঠীতলা কুমোরপাড়ার বাসিন্দা অলোক পালের ছেলে অগ্নিভ পাল কৃষ্ণনগর দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি ১২-১৪ বছর বয়স থেকেই পারিবারিক সূত্রে বাবার হাত ধরে তাঁর প্রতিমা তৈরির হাতেখড়ি।  কৃষ্ণনগর ঘূর্ণির রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত শিল্পী সুবীর পালের কাছে শিল্পের পাঠ নিচ্ছেন এবং নানা ধরনের কাজ করছেন।অগ্নিভর তৈরি এই প্রতিমাটির উচ্চতা প্রায় চার ফুট দু’ইঞ্চি এবং চওড়া সাড়ে চার ফুট। দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে রূপ পেয়েছে এই অনন্য সৃষ্টি।  অত্যন্ত নিখুঁত ও টেকসই করতে ফাইবারগ্লাসের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে মাটির কাঠামো তৈরি করে প্লাস্টারের ছাঁচ ঢালাইয়ের পর তা ফাইবারগ্লাসে রূপান্তর করা হয়।  প্রতিমার রঙ এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেই চক্ষুদান করেছেন অগ্নিভ।
জাপানে প্রতিমা পাঠানো কীভাবে? এই  প্রশ্নে অগ্নিভ বলেন, তিন বছর আগেও তাঁর তৈরি প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতার একটি প্রতিমা জাপানে পাঠানো হয়েছিল। জাপানে বসবাসকারী এক পরিচিত পরিবারের মাধ্যমেই পুনরায় এই নতুন প্রতিমা তৈরির বরাত আসে তাঁর কাছে। সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প জিআই  স্বীকৃতি লাভ করায় স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে নতুন উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। সেই আবহে নিজের তৈরি প্রতিমা বিদেশের মাটিতে পাড়ি দেওয়ায় গর্বিত এই তরুণ শিল্পী। ভবিষ্যতে মৃৎশিল্পকেই নিজের পেশা ও সাধনা হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান অগ্নিভ। প্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বিদেশের মাটিতে পৌঁছে দিয়ে বাংলার নাম আবারও উজ্জ্বল করলেন কৃষ্ণনগরের গর্বের মৃৎ শিল্পী অগ্নিভ পাল।

Scroll to Top