৩৬৫ দিন।গত ২০ দিনে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম। দেশের বাজারে চিনির মহার্ঘ হওয়ার নেপথ্যে ইথানলের উৎপাদনের যোগসূত্র নিয়ে সরব হয়েছেন অনেকেই । খুচরা বাজারে চিনির দাম চড়চড়িয়ে বেড়েছে।ব্যবসায়ীরা বলছেন, সপ্তাহখানেক আগেও খোলা বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। তা বেড়ে হয়েছে ৭২ টাকা। যার জেরে ধাক্কা খাচ্ছে মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। ।কেন্দ্র জানিয়েছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিধিনিষেধ চালু হবে। সেটা চলবে ৩০ নভেম্বর অর্থাৎ উৎসবের মরশুম শেষ হওয়া পর্যন্ত। কেন্দ্রের দাবি চলতি মরশুমে দেশে চিনি উৎপাদন প্রায় ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টন হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অথচ আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির প্রাথমিক অনুমান ছিল প্রায় ৩৪৩ চিনি উৎপাদনের। ফলে ঘাটতি থাকছে ৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন যা পুজোর মরসুমের জন্য বাড়তে পারে ।
চিনির দাম বৃদ্ধি সমস্যায় মিষ্টি বিক্রেতারা
পৈতে থেকে বিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নানা ধরনের অনুষ্ঠানে মিষ্টির চল সর্বত্রে। বর্তমানে চিনির যা দাম বেড়েছে তাতে মিষ্টি বিক্রেতার সমস্যায় পড়েছেন। ব্যবসায়ী তাপস খাঁ বলেন তারা কি করবেনডাম বাড়াবেন না সাইজ ছোট করবেন সেটাই এখন তাদের ভাবাচ্ছে। তার কারণ এই সময় হঠাৎ মিষ্টির দাম বৃদ্ধি ও করা যাচ্ছে না। চিনি আগের থেকে কিনে রেখেছিলেন তারাও এখন দুশ্চিন্তায় আছে, যদি এই ভাবে চিনির দাম বৃদ্ধি হয় পরবর্তীতে তাদের মিষ্টির দাম বাড়াতে হতে পারে। শুধু চিনি নয় গ্যাস থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন দ্রব্য এর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে সমস্যায় পড়ছেন মিষ্টি বিক্রেতারা।শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। কারণ মিষ্টি তৈরির প্রধান উপকরণ চিনি। শক্তিগড়ে ল্যাংচার দাম শুরু হয় সর্বনিম্ন সাত টাকা থেকে। ধাপে ধাপে দশ, পনেরো, কুড়ি টাকা প্রতিপিসেও বিক্রি হয় ল্যাংচা।এবার তা বাড়ানো হবে কারণ তারা সাইজও ছোট করবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ।
কেন্দ্রের দাবি
ইথানলের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি এই দাবি নস্যাৎ করল কেন্দ্র। শুক্রবার এক বিবৃতিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়ার কারণে চিনির দাম বেড়েছে—এমনটা ঠিক নয়। ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে, প্রত্যাশার চেয়ে কম চিনি উৎপাদন, উৎসবের মরশুমকে কেন্দ্র করে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত কারণে ফসলের ক্ষতি, বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মজুত ও ফটকা কারবারের আশঙ্কাও রয়েছে।
আসন্ন উৎসবের মরশুমে যাতে চিনির দাম হাতের বাইরে না চলে যায়, সেটা নিশ্চিত করতে সরকার মজুদদারি কড়া হাতে রুখতে চাইছে। কেন্দ্রের নয়া নির্দেশ, বড় বড় চিনি ব্যবসায়ী বা মজুতদাররা ১৫ দিনের বেশি চিনি গুদামে আটকে রাখতে পারবেন না। মোদি সরকারের নয়া নির্দেশিকা বলছে, যে সব ব্যবসায়ীরা মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি বেচাকেনা করেন, তাঁদের প্রতি ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের গুদামে মজুত সব চিনি বাজারে ছাড়তে হবে। সেটা নিশ্চিত করতে ১৫ দিন অন্তর অন্তর অভিযান চালাবে সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিধিনিষেধ চালু হবে। সেটা চলবে ৩০ নভেম্বর অর্থাৎ উৎসবের মরশুম শেষ হওয়া পর্যন্ত।
ইথানলের কারণে বাড়ছে চিনির দাম
দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন শক্তিগড়ের ল্যংচা ব্যবসায়ীরা
- khabar365din
- August 24, 2026
- 2:06 pm
- No Comments





