রাস্তার কুকুরের হিংস্রতায় সুপ্রিম কোর্ট , হাই কোর্টের রায়ের পরেও রাস্তায় এদের সংখ্যাধিক্য

৩৬৫ দিন । স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, রেলওয়ে স্টেশনের মতো পাবলিক প্লেস থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে দিতে হবে। পথকুকুর মামলায়  আগেরবছর  মে মাসে রায়  দিয়েছিলো সুপ্রিম কোর্ট।পরে নভেম্ভরে সামান্য বদলে মানুষের নিরাপত্তাকেই প্রাধান্য দিয়েছে শীর্ষ আদালত ।এর বিরুদ্ধে  পথকুকুর প্রেমী ও এনজিওগুলির দায়ের করা আবেদন খারিজ শীর্ষ আদালতে। প্রয়োজনে চরম রোগাক্রান্ত বা হিংস্র কুকুরদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ‘ইউথেনেসিয়া’ অথবা ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’র  মতো চরম  পদক্ষেপেরও  অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কুকুরের কামড়ে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ‘উদ্বেগজনক’ পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছিল  জনবহুল এলাকায় বেশি পথকুকুরের হামলার শিকার হয়েছে শিশু সহ অনেক মানুষ। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দিকটিও উপেক্ষা করতে পারে না আদালত। এদিন পথকুকুরদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যথেষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচির অভাব নিয়ে রাজ্যগুলির তীব্র সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত। ২০২৬ সালের মে মাসে  সুপ্রিম কোর্ট একটি বহু প্রতীক্ষিত রায় দেয় পথকুকুর সংক্রান্ত স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় আদালত স্কুল, হাসপাতাল এবং রেলস্টেশনের মতো প্রাতিষ্ঠানিক স্থান থেকে পথকুকুরদের সম্পূর্ণ অপসারণের অনুমোদন দিয়েছিল।এতে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বন্ধ্যাকরণ ও টিকা দেওয়ার পর একই স্থানে তাদের ছেড়ে দেওয়া স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। রায়ে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে যে কুকুরের কামড়ের ক্রমবর্ধমান ঘটনা কীভাবে জীবনধারণের অধিকারকে প্রভাবিত করে।অনুচ্ছেদ ২১সংবিধানের ধারা এর ফলে লংঘিত হচ্ছে বলেও ওই রায়ে জানানো হয় ।
২০২৫-এর নভেম্বরে তার আগের মে মাসের রায়টিকে সামান্য পরিমার্জন করে  আদালত নির্দেশ দিয়েছিল,  স্কুল, কলেজ বা হাসপাতালের মতো এলাকা থেকে পথ কুকুরদের টিকাকরণ বা বন্ধ্যাকরণের জন্য নিয়ে যাওয়ার পর, তাদের আর সেই পুরনো জায়গায় ফেরত পাঠানো যাবে ।মে মাসের সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু তার প্রেক্ষিতে  সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কুকুরের কামড়ের মতো বিষয়কে অবহেলা করা যায় না। আগের মূল  নির্দেশের কোনও পরিবর্তন করা হবে না বলে  বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ।

 

 

 

 

Scroll to Top