৩৬৫ দিন। হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসদের মতো করে খুন করা হয়েছে।ক্ষ্ম – ধুলিয়ানে দেহ টুকরো করে ক্যানেলে ফেলে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে সামশেরগঞ্জের জোড়া খুনের তুলনা টানলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। প্রশ্ন তুললেন পুলিশের ভুমিকা নিয়েও। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে চার পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। এই ঘটনায় জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরিন্দর সিংহকে শো কজ করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। তাঁকে কারণ দর্শাতে বলার পাশাপাশি সতর্কও করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছে সিআইডি-কে
কী ঘটনা ঘটেছিল?
২৮ অগস্ট মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। ২ সেপ্টেম্বর ফরাক্কার ফিডার ক্যানালে তার খন্ড বিখ ন্ড দেহ উদ্ধার হয়। এখনো তার দেহের একাধিক অংশ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়, ত্রিকোণ প্রেমের জেরে এই হত্যাকান্ড। বিবাহিত সুজিতের সঙ্গে এক মহিলার সম্পর্ক ছিল। সেই নিয়ে ওই মহিলার আর এক প্রেমিকের সঙ্গে তার ঝামেলা চলছিল। ধুলিয়ানে একটি ভাড়া বাড়িতে ফোন করে ডেকে সুজিতকে ওই মহিলা ও তার প্রেমিক মিলে খুন করে। তারপর দেহ টুকরো করে সিমেন্টের বস্তায় ঢুকিয়ে ক্যানালে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় সামিউল শেখ, তাজকিরা বিবি এবং জনি শেখ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী
সোমবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেনএই খুনের ঘটনায় পুলিশ সঠিক ভাবে তদন্ত করে নি। তাদের আরো সক্রিয় হওয়া উচিৎ ছিল। কর্তব্যে গাফিলতি ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন২৮ তারিখেই পুলিশের কাছে মিসিং ডায়েরি করেছিলেন নিহত যুবকের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল। ৩০ সেপ্টেম্বর এফআইআর দায়ের করেন তিনি। সুমনার অভিযোগ, ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়ান আখতার নামের এক যুবক ফোন করে ডেকে নিয়ে যান তাঁর স্বামীকে। তার পর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি সুজিতের। ২ সেপ্টেম্বর তাঁর খণ্ডবিখ ণ্ড দেহ উদ্ধার হয়। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন তোলেন পুলিশ কেন অভিযোগ নিতে বিলম্ব করবে? গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত করা উচিৎ ছিল।
কোন কোন পুলিশ অফিসারের শাস্তি
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কর্তব্যে গাফিলতির জন্য চার জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ধুলিয়ান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, এএসআই সুমন্ত দাস এবং শমসেরগঞ্জ থানার এসআই (সেকেন্ড অফিসার) সইফুল আলমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। থানার আইসি সুব্রত ঘোষকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। আর ফরাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।




