৩৬৫ দিন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে এমনই জানালেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল। এখনও পর্যন্ত কত জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা গিয়েছে, সেই পরিসংখ্যানও দিয়েছেন তিনি।গত ২৬ অগস্ট হড়পা বানের পর থেকেই বিপর্যস্ত নেপাল। আটকে গিয়েছেন অনেক ভারতীয়ও। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই পর্যটক। কেউ কেউ আবার নেপালে কাজে গিয়ে আটকে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের খোঁজই মিলেছে। আবার এখনও অনেক ভারতীয় নিখোঁজ। শুক্রবার তিন ভারতীয়ের উদ্ধার হওয়ার খবর জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। রণধীর জানিয়েছেন, ত্রিশূলী বাজার এলাকা থেকে ওই তিন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের পরিচয়ও জানিয়েছেন রণধীর। উদ্ধার হওয়া তিন ভারতীয়ের মধ্যে পাঁচ বছরের এক শিশুও রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ভারতীয়েরা হলেন অভিজিৎ সুরেশ পওয়ার, দীপিকা অভিজিৎ পওয়ার এবং সমর্থ অভিজিৎ পওয়ার। প্রাথমিক অনুমান, তিন জনই একই পরিবারের সদস্য। বাবা-মা এবং তাঁদের সন্তান। রণধীর জানিয়েছেন, নেপালে ভারতের দূতাবাস উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তাঁদের আকাশপথে ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে।শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হড়পা বানের কারণে এখনও পর্যন্ত ২৭৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। তবে ১৬৯ ভারতীয়কে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ত্রিশূলী বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ওই তিন ভারতীয়।
প্রথম থেকেই নেপালের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। ত্রাণসামগ্রী ভারত থেকে বিমানে করে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিপর্যস্ত নেপালে। শুক্রবার পর্যন্ত নেপালে ৯৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। রণধীর জানিয়েছেন, ভারত সরকার প্রতিনিয়ত নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী ভারত তাদের সহায়তা প্রদানের ধারা অব্যাহত রাখবে। শুধু ত্রাণসামগ্রী নয়, ভারত থেকে উদ্ধারকারীও দলও পাঠানো হয়েছে নেপালে। গিয়েছে ফরেনসিক দলও। নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পর্যন্ত সে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে মোট ১,২৯৫ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা গিয়েছে। উৎকণ্ঠা এখনও কাটছে না। নিখোঁজের সংখ্যা এখনও পাঁচ হাজার।
উদ্ধার চিনা শ্রমিক, মহিলা
বিপর্যয়ের ১০ দিন পরে নেপালে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হল আরও দু’জনকে। এক জনকে উদ্ধার করা হয়েছে ত্রিশূলী নদীর এক জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে। অপর জন আটকে ছিলেন নুয়াকোট জেলায় কাদামাটিতে চাপা পড়া একটি চারতলা বাড়িতে। দু’জনকেই উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে করে পাঠানো হয়েছে চিকিৎসার জন্য।শুক্রবার ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে দু’জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উভয়েই নেপালি শ্রমিক। তার পরের দিন, শনিবার সকালে ত্রিশূলীরই এক জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হল এক চিনা শ্রমিককে। তিনি ত্রিশূলী নদীর উপর কোন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে ছিলেন, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
শনিবার সকালে নেপালি সেনার নেতৃত্বে, দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় ওই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। প্রায় ২২৫ মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ থেকে ওই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন নেপালি কর্তৃপক্ষ। সে দেশের সেনা ওই উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিয়োও প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, উদ্ধার হওয়া শ্রমিককে একটি হেলিকপ্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হেলিকপ্টারের মধ্যেই নেপালি সেনার এক চিকিৎসক ওই শ্রমিকের চিকিৎসা করছেনশনিবার নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬৪ বছর বয়সি এক মহিলাকে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যাওয়া একটি চারতলা বাড়িতে গত ১০ দিন ধরে আটকে ছিলেন তিনি। নেপালি পুলিশ জানাচ্ছে, ওই বাড়িটির উপরের তলা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করার পরে তাঁকে সেনার হেলিকপ্টারে মৈথিলী ব্যারাকে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত সেখানেই চিকিৎসা চলছে ওই প্রৌঢ়ার।
গত ২৬ অগস্ট নেপালের ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বান নেমেছিল। ওই বিপর্যয়ের পর থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে নেপালি সেনা এবং পুলিশ। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ থেকেও উদ্ধার অভিযানে সাহায্য করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৩০০-র বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও খোঁজ নেই প্রায় ৫ হাজার জনের। সময় যত এগোচ্ছে, তাঁদের জীবিত উদ্ধারের আশা তত ক্ষীণ হচ্ছে।



