শিক্ষক দিবসে উপড়ে ফেলা হল বিদ্যাসাগরের মূর্তি!

৩৬৫ দিন। শিক্ষক দিবসে উপড়ে ফেলা হল বিদ্যাসাগরের মূর্তি! জঘন্য ঘটনা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে ২০২০-র ২৬ সেপ্টেম্বর রারুইপুর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্যাসাগরের নামে একটি পার্ক তৈরী হয়। ওই পার্কেই বসানো হয় বিদ্যাসাগরের মূর্তি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ওই পার্ক পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এর মধ্যে শনিবার সকালে দেখা যায় বিদ্যাসাগরের মূর্তিটিকে উপড়ে ফেলা হয়েছে তা পড়ে রয়েছে পাশের ঝোপ জঙ্গলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। ওই পার্কে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই ফলে কে বা কারা এই কান্ড ঘটালো তা পরিষ্কার নয়। পুলিশ জানাচ্ছে আশপাশের ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। গোটা ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতাকে দায়ী করছে তৃণমূল। তাদের দাবি এলাকায় ঠিক মত পুলিশি টহল থাকলে এই ঘটনা ঘটতো না।
বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা শিক্ষক ছাত্র সমাজের অপমান। পুলিশকে দ্রুত দুষ্কৃতীদের ধরতে হবে। যদিও প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। তারা বলছে, অশান্তি পাকাতেই শিক্ষক দিবসের দিন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। প্রশাসনকে বদনাম করতে পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে। তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে তাদের পাল্টা বক্তব্য, যে পার্কে মূর্তি ভাঙা হয়েছে তা তো তৃণমূলের সরকারের আমলেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পুরসভা তো ওদের ছিল কেন পার্ক ঠিক মত সংরক্ষণ করেননি। বারুইপুর পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ফের ওই পার্কে বসানো যায় কি না তা দেখা হচ্ছে। পার্কটিকে ফের চালু করার ব্যাপারেও কথা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে রাখির অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে  দুর্গাপুরে পন্ডিত নেহেরুর মূর্তি খানিকটা এই রকম ভাবেই উপড়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।‌ কংগ্রেস অভিযোগ করেছিল স্থানীয় বিধায়কের নির্দেশে ওই কাজ হয়েছিল এই নিয়ে সোরগোল শুরু হতে ফের ওই মূর্তি বসিয়ে দেওয়া হয়। এবার ভাঙা হল বিদ্যাসাগরের মূর্তি। ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা থেকে বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, যারা মূর্তি ভাঙছে মণীষীদের অপমান করছে তাদের অবিলম্বে ধরতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে আর বিদ্যাসাগর তো বাঙালীর আইকন। তার মূর্তি ভাঙা মানে বাংলা এবং বাঙালীকে অপমান। প্রশাসন কড়া হাতে দমন করুক দুষ্কৃতীদের‌।

Scroll to Top