কথায় নয় তার সরকার কাজে করে দেখাবে
শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর

৩৬৫ দিন। কথায় নয় তার সরকার কাজে করে দেখাবে – শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর। পাশাপাশি জানালেন, শিক্ষকদের মর্যাদা ফেরাবে তার সরকার। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে বললেন চিরকুট, টেলিফোনে শিক্ষক নিয়োগ হয়না। এবার রাজ্যে স্বচ্ছ ও শুদ্ধ নিয়োগ হবে। তবে শুভেন্দু সবচেয়ে বেশী সময় ব্যয় করলেন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত ঘোষণা নিয়ে। নিউ টাউনে কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান’ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন শুভেন্দু সেই অনুষ্ঠান থেকেই ডিএ থেকে শিক্ষক নিয়োগ স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন একাধিক বিষয় ছুঁয়ে যান তিনি।
মলহোত্র কমিটির নির্দেশ মেনেই ডিএ পদক্ষেপ
শনিবার শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের মহার্ঘভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। ইন্দু মলহোত্র কমিটির নির্দেশ মেনেই পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। এককালীন অর্থ দেওয়া সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘কোনো চিন্তা করবেন না। আমাদের সরকার ভাষণ দেওয়াতে বিশ্বাস করে না। ভরসা রাখুন আমরা করে দেখাব। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শিক্ষকদের বকেয়া মহার্ঘভাতা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে ডিএ বকেয়া নিয়ে লড়াই চলছে। আগের সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কিছুটা দিতে বাধ্য হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসে সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের অনেকটা দিয়ে দিয়েছি। শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমাদের সরকারের নীতি খুব পরিষ্কার। মলহোত্র কমিটি যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা মেনে নেব। আমরা হিসাব করেছি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ভাতা দিতে গেলে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা লাগবে। আমরা হয়তো এক দিনে দিতে পারব না। তবে মলহোত্র কমিটি আমাদের নির্দেশ দিলে আমরাও সহযোগিতাও করব।’’
পরিকাঠামো উন্নয়ন স্বচ্ছ নিয়োগ
তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামোগত অবনতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সীমিত সময়ের মধ্যে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নতিতে বরাদ্দ করেছি। কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। যারা একটু অবস্থাপন্ন তারা এখন আর তাদের ছেলেমেয়েদের সরকারি স্কুলে পাঠায় না। তারা বেসরকারি স্কুলে চলে যায়। সরকারি স্কুলে মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে মেয়েরা যায় তাদের ভালো শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। ভালো মিড ডে মিল দিতে হবে। ভালো পোশাক দিতে হবে। আমরা সব করছি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘ইতিমধ্যে আমরা শিক্ষাব্যবস্থার অনেক ক্ষতি করে ফেলেছি। আর হবে না।’’ সম্প্রতি কলকাতার ভাবানীপুরে মিত্র ইনস্টিটিউশনে এক পড়ুয়াকে সাপের ছোবল মারার প্রসঙ্গ তুলে বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘তিন বছর কম্পোজ়িট গ্র্যান্ট পাননি। সামান্যই টাকা। ওতে কিছু হয় না। কিন্তু ওই টাকায় কার্বলিক অ্যাসিড, ফিনাইল কেনা যায়।
সোমবার থেকে বার্ধক্য ভাতা
সোমবার অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা সহ একগুচ্ছ ভাতার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে চলেছে বলে খবর। জনকল্যাণ শিবিরে যাঁরা এই তিনটি ভাতার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন, তেমন প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ উপভোক্তা সরাসরি অ্যাকাউন্টে এই ভাতার টাকা পাবেন বলে সমাজকল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬২ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে যাবে দেড় হাজারের টাকা করে। নবান্ন‌ সূত্রে খবর, সোমবার নবান্ন সভাঘরে এক অনুষ্ঠান থেকে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হবে সেখানে থাকার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।

Scroll to Top