৩৬৫ দিন।নিজস্ব প্রতিনিধি।তারাপীঠে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল বীরভূম জেলা প্রশাসন। একাধিক অনিয়মের অভিযোগে তারাপীঠের ১৫টি হোটেল ও লজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রামপুরহাটের মহকুমাশাসক এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্ধের নির্দেশ পাওয়া হোটেল ও লজগুলির একাধিক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দমকল বিভাগের প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেটও ছিল না বলে অভিযোগ। পর্যটন ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হোটেল হোমস্ট্রে ও গেষ্ট হাউস গুলিতে বিদ্যুতের কানেকশান গুলিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে তারাপীঠ মন্দিরে কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। তার আগে আজকের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুমিছিলের পর আরও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে বীরভূম জেলাশাসক।
১৭ অগস্টের নির্দেশিকায় বীরভূমের জেলা শাসক জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যায় বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ অডিটের সিদ্ধান্ত। লক্ষ্য, তারাপীঠে থাকা হোটেল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো এবং কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার পরিদর্শন—যার মধ্যে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার হাইড্র্যান্ট, পাম্প, পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, হোস রিল, ফায়ার অ্যালার্ম, জরুরি আলোকব্যবস্থা, ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা ও পর্যাপ্ততা যাচাই অন্তর্ভুক্ত। জরুরি বহির্গমন পথ, সিঁড়ি, চলাচলের পথ, জরুরি অবস্থায় নিরাপদে সরে যাওয়ার ব্যবস্থা এবং বাধাহীনভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ রয়েছে কিনা দেখা। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র/অনাপত্তি সনদ (NOC) এবং অন্যান্য আইনি অনুমোদনের বৈধতা যাচাই করা। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, জরুরি ভিত্তিতে এই পরিদর্শন শুরু করতে হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। চূড়ান্ত রিপোর্টে কোন কোন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে, কোথায় কী ত্রুটি ধরা পড়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার এবং কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন—তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। রামপুরহাটের মহকুমা শাসক রাঠোর অশ্বিন বাবুসিং জানিয়েছেন, হোটেল সংক্রান্ত নথিপত্রে গড়বড় থাকার কারণে তারাপীঠের যে পনেরো টি হোটেল আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেগুলি হল, আদর্শ হোটেল, নকুল চন্দ্র লজ, শৈলেন ভবন, গীতশ্রী গেস্ট হাউস, হরেকৃষ্ণ ভবন, গিরিধারী ভবন, বীরভূম লজ, ভোলানাথ ভবন, হোটেল দেব, আনন্দ ভবন, স্বস্তিক নিবাস হোটেল, তারাপীঠ লজ, সন্দীপ লজ, কেশরী লজ ও দত্ত ভবন। বীরভূম জেলার জেলাশাসক ধবল জৈন জানিয়েছেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। হোটেল ব্যবসায়ীদের সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হবে। কোথাও গাফিলতি নজরে এলে কঠ পদক্ষেপ নেয়া হবে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।





