প্রাণদন্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে ফাঁসিতেই সায় দিল সুপ্রিমকোর্ট,বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের পরামর্শ

৩৬৫ দিন। প্রাণদন্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে ফাঁসিতেই সায় দিল সুপ্রিমকোর্ট। তবে বিকল্প কোনো উপায় বের করা যায় কিনা তার দায়িত্ব কেন্দ্রকেই নিতে হবে বলে জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন-ও করা যেতে পারে। তবে আপাতত ফাঁসি রদ হচ্ছে না। ঋষি মালহোত্র নামে এক ব্যক্তি প্রাণদন্ডের মাধ্যম হিসাবে ফাঁসির সাজার বিরোধীতা করে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর যুক্তি ছিল, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে প্রাণদন্ডের সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীর মৃত্যু হতে ৪০ মিনিট লেগে যায়। কখনো আরো বেশী সময়-ও লাগতে পারে। এটা চুড়ান্ত অমানবিক। কেউ যত গর্হিত অপরাধ-ই করুক না কেন আদালত যখন তাকে প্রাণদন্ডের সাজা দিচ্ছে তখন তো সে সর্বোচ্চ শাস্তি পাচ্ছে তারপরেও তাকে নির্মম ভাবে সাজা দেওয়া ঠিক নয়। সম্মানজনক ভাবে মৃত্যুর অধিকার সকলের আছে। মামলাকারী প্রস্তাব দেন, ফাঁসির বদলে ইঞ্জেকশন দিয়ে হত্যা বা গুলি করে হত্যার উপায় নেওয়া হোক অথবা যাকে সাজা দেওয়া হচ্ছে তাকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক যদিও মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ মামলাকারীর আর্জি খারিজ করে দেন। সুপ্রিমকোর্ট জানায় তারা এখনও সারা দেশে স্বীকৃত একটি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চান না। তাই ফাঁসি বাতিল হচ্ছে না তবে এটি যে চুড়ান্ত কোনো রায় তা নয়। বিচারপতিরা অতীতে ফাঁসির বিরোধীতা করা দায়ের হওয়া তিনটি মামলার উদাহরণ টেনে বলেন,এই মামলাগুলো সুপ্রিমকোর্টে একাধিকবার খারিজ হয়েছে। কেন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে এরপর বিচারপতিরা বলেন, আপনারা বিজ্ঞানসম্মত অন্য বিকল্প বাছুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। তবে প্রাণদন্ডের উপায় হিসাবে মৃত্যুদন্ড ছাড়া অন্য কোনো উপায় বাছতে কেন্দ্র যে খুব একটা আগ্রহী তা নয়। গত বছর এই সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় সুপ্রিমকোর্ট কেন্দ্রকে পদক্ষেপ করতে বললেও তারা জানায় বিষয়টি বাস্তবসম্মত নয় শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয় তাদের।

Scroll to Top