জোড়াবাগানে ফের ভেঙে পড়ল পুরনো বাড়ি, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মহিলার মৃত্যু

৩৬৫ দিন। জোড়াবাগানে ফের পুরনো বাড়ি ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। টানা বৃষ্টির মধ্যেই মঙ্গলবার ভোরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি তিনতলা বাড়ির একাংশ। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় উর্মিলা সাহু নামে এক মহিলার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে জোড়াবাগান থানা এলাকার মালোপাড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টা নাগাদ ৩১, ব্রজদুলাল স্ট্রিটের ওই পুরনো বাড়িটির একাংশ আচমকা ভেঙে পড়ে। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আশপাশের বাসিন্দাদের। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বাড়িটির ভিতরে তখন একাধিক মানুষ ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কয়েকজন আটকে পড়েন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জোড়াবাগান থানার পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আটকে থাকা বাসিন্দাদের একে একে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হলেও ইট-পাথরের নীচে চাপা পড়ে যান উর্মিলা সাহু। দীর্ঘ চেষ্টার পর তাঁকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। পুরসভার তরফে বাড়িটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে একাধিক পরিবার বসবাস করছিলেন। লাগাতার বৃষ্টির জেরে বাড়িটির দুর্বল কাঠামো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। এই দুর্ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে শহরের বিপজ্জনক ও জরাজীর্ণ বাড়িগুলির নিরাপত্তা। কারণ, সোমবারই হাওড়ায় শতবর্ষ প্রাচীন একটি তিনতলা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন বাড়ির বৃদ্ধ মালিক। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় জানলার লোহার রড কেটে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে ভবানীপুরেও পুরনো একটি লাইব্রেরির একাংশ ভেঙে পড়েছিল। টানা বৃষ্টির মধ্যে পরপর এমন ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায়।

Scroll to Top