দিল্লির কৃষি ভবন চত্বরে থাকা কাদেমি মসজিদ সরাতে চায় কেন্দ্র

আদালতে কেন্দ্রের মুক্তি, সরকারি ভবনের পাশে ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে বেমানান

৩৬৫ দিন। দিল্লির কৃষি ভবন চত্বরে থাকা কাদেমি মসজিদ সরাতে চায় কেন্দ্র। স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে পরিষ্কার করে জানিয়ে দিল মোদি সরকার। ২০২১ সাল থেকেই কাদেমি সহ আরো ১০ মসজিদের নিরাপত্তা চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল ওয়াকফ বোর্ড। সেই তখন থেকেই কাদেমি মসজিদের ভবিষ্যত নিয়ে জল্পনা তৈরী হয় যদিও সেই সময় কেন্দ্রের তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল মসজিদ সরানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। কিন্তু এবার সুস্পষ্ট ভাবে কেন্দ্র জানিয়ে দিল তারা কাদেমি মসজিদ সরাতে চায়।
ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে বেমানান
কেন্দ্রের তরফে মসজিদ সরানোর পক্ষে আদালতে দুটি যুক্তি দেওয়া হয়, প্রথমত, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পে পুনর্গঠনের যে কাজ চলছে তাতে কৃষি ভবন ও শাস্ত্রী ভবন দুটিই ভেঙে ফেলা হবে। এই চত্বরে থাকা কাদেমি মসজিদকে বাঁচিয়ে পুনর্নির্মাণের কাজ করা যাবে না। তাই মসজিদ সরাতেই হবে। দ্বিতীয় যে যুক্তি কেন্দ্র দিচ্ছে তা তাৎপর্যপূর্ণ। মোদি সরকারের যুক্তি সরকারি ভবনের পাশে যদি ধর্মীয় উপাসনালয় থাকে তবে তা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে বেমানান। এখানেই আবার প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। তারা বলছে, সংসদ হোক কিংবা ভাজপা শাসিত রাজ্যের বিধানসভা সর্বত্র-ই তো বেদ, গীতার কথা বলা হয় বা হিন্দু ধর্মীয় উপাচার যেমন যাগযজ্ঞ করা হয়েছে অতীতে তাহলে তখন কেন বিরোধীতা করা হল না
মসজিদ কর্তৃপক্ষের যুক্তি
কাদেমি মসজিদের তরফে বলা হচ্ছে এই মসজিদ শতাব্দী প্রাচীন। হঠাৎ করে মসজিদ গজিয়ে ওঠেনি। ১৯১১ সালে যখন দেশের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হল তার আগে থেকে এই মসজিদ রয়েছে। ১৯১২ সালের ব্রিটিশদের নথিতে মসজিদের উল্লেখ আছে। স্বাধীনতার ১০ বছর পর ১৯৫৭ সালে যখন কৃষি ভবন তৈরী হল তার-ও অন্তত ৭০-৮০ বছর আগে থেকে ওই মসজিদ রয়েছে। বৈধ ওয়াকফ সম্পত্তির তালিকায় এই মসজিদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাদের প্রশ্ন সরকারি খাতাতেই যে ধর্মীয় উপাসনালয় বৈধ তাকে সরকার ভেঙে সরিয়ে দেবে কী করে
আদালতের পর্যবেক্ষণ
কেন্দ্রের স্ট্যাটাস রিপোর্টে মসজিদ সরানোর উল্লেখ নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ-ও বেশ আৎপর্যপূর্ণ। দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রের কাছে জানতে চায়, আপনারা কী বলতে চাইছেন,কোনও ধর্মস্থানের জন্যই কোনও (বিকল্প) স্থান দেওয়া হবে না? এমন কি কোনও নিয়ম আছে যেখানে লেখা আছে সরকারি কোনও স্থানে ধর্মীয় আচারের জন্য জায়গা দেওয়া হবে না? আমরা নিয়মটা জানতে চাইছি। চলতি মাসের শেষের দিকে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে সেখানে কেন্দ্রকে আদালতের কাছে এই বিষয়গুলি স্পষ্ট করতে হবে।

Scroll to Top