ইস্টবেঙ্গলের এসিএল অভিযান শেষ, সুযোগ নষ্ট করে হার রশিদদের

ইস্টবেঙ্গল – ০
আল সিব – ২

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। এসিএল টু-এর পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জন্য ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই ম্যাচটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের লড়াইয়ের আগে পর্যন্ত লিগ টেবলের তৃতীয় স্থানে থাকা ইস্টবেঙ্গল যেখানে পেয়েছে দুই পয়েন্ট, সেখানে ওমানের দলটির সংগ্রহে মাত্র এক পয়েন্ট। অ্যাওয়ে ম্যাচে কোচ হাবাস ডেভিড ও এডমুন্ডকে আক্রমণভাগে খেলিয়েছিলেন। যেখানে একে লোবা, লুকাস জেলোনস্কির মতো বিদেশি রয়েছেন দলে। তার উপর লোবার গোলও রয়েছে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশিদের বসিয়ে ভারতীয় স্ট্রাইকারদের যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ, তা নিয়ে চর্চা হয়েছে যথেষ্টই। আল-সিব ম্যাচে গোল না পেলেও আল-শোর্তার বিরুদ্ধে গোল পেয়েছেন ডেভিড। পরপর ম্যাচ খেলতে হচ্ছে বলেই রোটেশনের দ্বারস্থ হচ্ছেন হাবাস। মঙ্গলবারও সেই পরিকল্পনা নিতে পারেন সেটাই দেখার ছিল। প্রতিপক্ষ দলে তিন বিদেশি ছাড়াও জাতীয় দলের ছয় ফুটবলার ছিলেন। তবে সে সব নিয়ে বিশেষ চাপ নেননি লাল-হলুদ কোচ। এসিএল টু-এর জন্যই অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। অ্যাওয়ে ম্যাচে ওমান থেকে জয়ের পরিস্থিতি থেকেও ম্যাচ ড্র করে ফিরে আসতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে।ইস্টবেঙ্গলের ভাগ্যটা খারাপ ছিল আজ। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার এবং ডিফেন্সের নেতা আনোয়ার পায়ে একটা টান অনুভব করায় ১৮ মিনিটে তাকে বেরিয়ে যেতে হয়। বদলি হিসেবে নামানো হয় বাঙালি সন্দীপ মান্ডিকে।
তাকে তৈরি করেছেন হাবাস। কিন্তু আনোয়ারের অভিজ্ঞতা আর তরুণ সন্দীপের অভিজ্ঞতা এক নয়। সেটা বেশ কয়েকবার চোখে পড়ল। প্রথম ৪৫ মিনিট বলতে গেলে ইস্টবেঙ্গল তুলনামূলক বেশি ওপেন করেছিল। একবার তো প্রায় নিশ্চিত গোল মিস করলেন রশিদ। বিপিনের ক্রস হেড করলেন বটে, কিন্তু নিশানায় রাখতে পারলেন না। আর একবার জয় গুপ্ত একটা সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে তার বডি ব্যালেন্স ঠিক না থাকায় শট বাইরে চলে যায়। ওমানের দলটিও বেশ কয়েকটা আক্রমণ গড়ে তুলেছিল। সবচেয়ে সহজ সুযোগটা পেয়েছিলেন হুসেইনি। তার নেওয়া বা পায়ের দেখার মত শট সামান্যর জন্য টার্গেটে থাকেনি।
৫৪ মিনিটে মান্ডির ক্রস থেকে এডমন্ডের হেড বাইরে, ৬০ মিনিটের মাথায় এল লোবা। লোবা থেকে পাওয়া একটা বল ডানি মিস করলেন। সুযোগ পেয়েছিলেন লুকাস। কিন্তু নিশানায় রাখতে পারলেন না। কথায় বলে ফুটবল চান্সের খেলা। যে সামান্যতম সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে তারাই জিতবে। ৮৫ মিনিটে প্রথম গোল করে গেলেন আল সিবের ফরওয়ার্ড এক্সেল মেয়ে। সন্দীপকে শিল্ড করে জোরালো পাঞ্চ। লাল হলুদ গোলরক্ষকের নাগাল এড়িয়ে চলে গেল জালে। পাঁচ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। ৯১ মিনিটের মাথায় দেখার মত গোল করলেন ওমানের ক্লাবের তরুণ ফুটবলার জাহির। এই গোলটার সময় পুরো ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স জায়গায় ছিল না। বলা যায় কাউন্টার আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলটা হজম করতে হল। এখানেই শেষ হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের
এসিএল ২ ক্যাম্পেন। অসংখ্য ইস্টবেঙ্গল সমর্থক আজ যারা মাঠে এসেছিলেন হতাশ হয়ে ফিরলেন। বেশি সুযোগ পেয়েছিল তাদের দল। কিন্তু সুযোগ পাওয়া আর বড়লোকের বাউন্ডুলের ছেলের মত নষ্ট করা এক জিনিস নয়। তার দাম দিতেই হত। সেটাই হল শেষ পর্যন্ত।

Scroll to Top