প্রয়াত বলিউড পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত

৩৬৫ দিন। তপন বকসি. মুম্বাই বলিউডের পরিচিত পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত প্রয়াত হয়েছেন। গত ৩০ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে প্রাথমিকভাবে শোনা যাচ্ছে, গত রাতে নিজের বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ঘটনাটি কারও নজরে আসেনি। আজ, ৩১ অক্টোবর ভোরে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে। সঞ্জয় গুপ্ত একাধিক জনপ্রিয় ও আলোচিত ছবির পরিচালক হিসেবে বলিউডে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে কাঁটে, শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা, কাবিল, আতিশ, রাম শাস্ত্র, জং, জজবা, জিন্দা, হামেশা, মুসাফির, দস কাহানিয়াঁ, মুম্বই সাগা এবং খওফ। এই ছবিগুলির বেশ কয়েকটির প্রযোজনা ও সহ-প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এ ছাড়াও শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা, প্ল্যান, উডস্টক ভিলা, অ্যাসিড ফ্যাক্টরি এবং পঙ্খ-এর মতো ছবির প্রযোজক ছিলেন সঞ্জয়। বেশ কয়েক বছর আগে পুনে থেকে গাড়ি চালিয়ে মুম্বই ফেরার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির স্টিয়ারিং ছিল তাঁর নিজের হাতেই। সেই দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন সঞ্জয়। বলা যায়, সে যাত্রায় তিনি যেন জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছিলেন।
তিনি ১৯৬৯ সালের ২৩ অক্টোবর৷ মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পরিচালক রাজ শিপ্পির কাছে সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তিনি আদিত্য পাঞ্চোলি, সঞ্জয় দত্ত অভিনীত “আতিশ” ছবিটি পরিচালনা করেন। সঞ্জয় গুপ্তের জীবন ছিল নানা উত্থান-পতন, সংঘাত ও নাটকীয়তায় ভরা। প্রযোজকদের সঙ্গে একাধিকবার তিক্ত বিবাদে জড়িয়েছেন, কখনও কখনও সেই বিবাদ প্রকাশ্যেও এসেছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও বলিউডে নিজের জনপ্রিয়তা ও পরিচালকের পরিচিতি অটুট রাখতে পেরেছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও খুব একটা মসৃণ পথ চলেননি সঞ্জয়। স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর কয়েক বছর বাদে আবার তাঁকেই বিয়ে করেছিলেন। জীবনের নানা টানাপড়েনের মধ্যেও তাঁর মুখের হাসিটি ছিল চিরপরিচিত। প্রায় সব সময় মুখে লেগে থাকা সেই হাসি, আর তাঁর মুখের সহজাত কিশোরসুলভ সারল্য ও আকর্ষণ—সব মিলিয়ে সঞ্জয় গুপ্ত ছিলেন এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব। তাঁর সেই চিরহাস্যময় মুখটি এবার থেকে শুধুই স্মৃতিতে রয়ে যাবে।

Scroll to Top