৩৬৫ দিন। দাদাকে বাঁচাতে গিয়েছিল বাবা, দুষ্কৃতীরা রেয়াত করেনি। দাদা রবীন্দ্রনাথকে ছেড়ে বাবা রঞ্জিত মন্ডলকে বেধড়ক মারে দুষ্কৃতীরা। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়, লাভ হয়নি। ইতিমধ্যে রঞ্জিতের মৃত্যু হয়। ঘটনার ৪৫ দিন পর পুলিশ যা পারেনি তা করে দেখাল নিহত রঞ্জিতের পড়ুয়া মেয়ে। এক বোনকে সঙ্গে নিয়ে যে দুষ্কৃতীর মারে বাবার মৃত্যু হয়েছিল তাকে ধরে পুলিশের-ই হাতে তুলে দিল সে। ঘটনাস্থল ইসলামপুর বাসস্ট্যান্ড। ১৫ সেপ্টেম্বর ইসলামপুর থানার নন্দঝাড় এলাকার অলিপুরে মারধরের ঘটনায় গুরুতর জখম হন সঙ্গীতার বাবা রঞ্জিত মণ্ডল। তাঁকে উদ্ধার করে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর ইসলামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ পেয়ে কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও আসল অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে হঠাৎ-ই ওই অভিযুক্তকে বাসস্ট্যন্ডে দেখতে পায় রঞ্জিতের মেয়ে সঙ্গীতা। মাথায় রোখ চেপে যায় তার। ফোন করে ডেকে নেয় সুতপা নামে তার এক বোনকে। এরপর দুজনে মিলে গিয়ে দাঁড়ায় সেই দুষ্কৃতীর সামনে। প্রথমে কথা কাটা কাটি হয় তারপর শুরু হয় হাতাহাতি। দুই বোনকে ঠেলে ফেলে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওই দুষ্কৃতীর পা ধরে ফেলে দেয় সঙ্গীতা। মার খেয়েও সেই পা ছাড়েনি সে অন্যদিকে সুতপা অভিযুক্তের গলা চেপে ধরে। বাসস্ট্যান্ডে এই দৃশ্য দেখে চমকে যান যাত্রীরা। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছুটে এসে লড়াই থামিয়ে তিনজনকেই আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ আসতে জানা যায় আসল ঘটনা। ইতিমধ্যে সঙ্গীতার ফোন পেয়ে তার বাড়ির লোকজন-ও সেখানে আসে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে অভিযুক্ত ছেলেটি নাবালক। তাই তাকে আপাতত জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে সেখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৪৫ দিনে পারেনি পুলিশ, বাসস্ট্যান্ডে হাতাহাতি করে বাবার খুনিকে ধরল পড়ুয়া মেয়ে
- khabar365din
- October 31, 2026
- 3:48 pm
- No Comments






