অসম থেকে বসাতে ফেরত আনা হচ্ছে বাঘিনীকে : বনমন্ত্রী মনোজ ওরাও

৩৬৫ দিন। বক্সা থেকে বাঘিনী অসমে চলে যাওয়া কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয় বলেই শুক্রবার এক বৈঠকে জানালেন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাও।পরিবেশ ভবনে আসন্ন কালীপুজো নিয়ে এক বৈঠকে তিনি জানান
বক্সা থেকে রাইমনা অসমের এই জঙ্গলের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। এই অবস্থায় কীভাবে দুই রাজ্যের বনদফতরের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে বাঘটিকে ফিরিয়ে আনা যায় এবং ভবিষ্যতের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে অসম প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যয়ের বৈঠক করতে চলেছেন এই রাজ্যের বনমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে তিন বছর বয়সি ওই বাঘিনিকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে এনে ছাড়া হয়। বক্সায় বাঘের পরিবারের স্থায়ী বসবাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বক্সার জঙ্গলে বাঘিনিটিকে ছাড়েন। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই বাংলার জঙ্গল ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে অসমে চলে যায় বাঘিনি। অক্টোবরের শুরুতেই বিহার থেকে এনে বক্সা অভয়ারণ্যে ছাড়া হয়েছিল বাঘিনিকে। ২৪ দিনের মধ্যে সেই বাঘিনি বাংলা ছেড়ে অসমে চলে গিয়েছে। সেখানেই এই মুহূর্তে থাকছে সে।গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনী এনে আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ছাড়া হয়েছিল। কিন্তু নিজের চারণভূমি বা এলাকা নির্ধারণের চক্করে (এরিয়া ডমিনেশন) ২৩ অক্টোবর সে সঙ্কোশ নদী পার হয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে যায়। মনোজ জানান বাঘিনীর গলায় রেডিও কলার পরানো থাকায় সে কোথায় যাচ্ছে তা বনআধিকারিক ও বিশেষজ্ঞরা নজর রাখছেন।বাঘিনীকে বাগে আনতে পারলে তাকে প্রথমে প্রকল্পে ছাড়া হবে ও প্রয়োজন হলে আরও কর এলাকায় ছাড়া হবে। এরপরেও যদি দেখা যায় যে তার ফলে এলাকায় মানুষের ক্ষতি হচ্ছে তখন সেইমতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন বাঘিনি বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমে চলে গেল সেই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠেছে। সেবিষয়ে বনমন্ত্রী বলেন তিনি কাল অসম যাচ্ছেন । আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখতে চাইছি। আধিকারিকরা অসমে রয়েছেন। আমিও যাব। অসম প্রশাসন আমাদের সাহায্য করছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বাঘ নিশ্চিন্তে ঘোরাঘুরি করছে, শিকারও করছে। বেশি চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। এটা ওদের স্বাভাবিক ব্যবহার।নতুন জায়গায় থিতু হওয়ার আগে ওরা এইভাবে ওদের এলাকা চিনে নেয় পি সেক্ষেত্রে ২/৪ কিমি বা তারও বেশি এলাকায় যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয় ।
বক্সায় বাঘের বংশবৃদ্ধির পরিকল্পনা অনুযায়ী এই বাঘিনীটি চলে গেলেও কর্মসূচি থমকে থাকছে না। বনমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে ২০২৬ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে আরও একটি পুরুষ বাঘ বক্সার জঙ্গলে আনা হবে। এরপর আরও একটি বাঘিনী আনারও পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য বনদপ্তরের। নিউটাউনে ২০২৭ সালে ব্যাগ আনার পরিকল্পনা
আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যেই নিউ টাউনের ইকো পার্ক লাগোয়া হরিণালয়ে বাঘ আনার পরিকল্পনা রয়েছে।শুক্রবার হরিণালয়ের পরিকাঠামো ও বাঘের এনক্লোজার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান বাঘ রাখার পরিকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ কেবল সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেই কাজ শেষ হওয়ার পরেই সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য আবেদন করা হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্ক থেকে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আনা হতে পারে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবা হবে।উল্লেখ্য ২০২৪ সালেই নিউটাউনে বাঘ আনার পরিকল্পনা হয়েছিল ।সেইমতো পরিকাঠামোয় গড়ে তোলারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিলো ।

Scroll to Top