বক্সার সেই বাঘিনী পালিয়ে গেল অসমে

৩৬৫ দিন। বিহারের থেকে ‘বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ’ থেকে একেবারে হেলিকপ্টারে উড়িয়ে আনা হয়েছিল বাঘিনিকে। কার্যত রানির হালে বক্সা টাইগার রিজার্ভে নিয়ে আসা হয় তাকে। কিন্তু এক মাসও গেল না। ‘ফুরুৎ’ হয়ে গেল সে। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের রায়ডাক নদী পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে ওই বাঘিনি বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমানে বাঘিনির উপর নজরদারি চালাতে বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনকর্মীদের দল রাইমোনা বনাঞ্চলে রয়েছে। পাশাপাশি অসমের মানস ও কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের বনকর্মীরাও বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখছেন।রাইমোনা জাতীয় উদ্যানের ডিএফও মুস্তাফা আলি আহমেদ বলেনতবক্সা থেকে বাঘিনি রাইমোনায় এসেছে। সেখানে বক্সা টাইগার রিজার্ভের আধিকারিকরা রয়েছেন। তাঁরাই বাঘিনির অবস্থান শনাক্ত করে নজরদারি চালাচ্ছেন।
ফলে এই মুহূর্তে রাইমোনা বনাঞ্চলের ঠিক কোন এলাকায় বাঘিনিটি রয়েছে, তা তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব নয়।দজানা যাচ্ছে, বাঘিনিকে ফেরাতে বন দফতরের যে দল রয়েছেতাতে ট্র্যাঙ্কুলাইজার মাস্টারও রয়েছেন। ফলে বাঘিনিকে আবার ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে কাবু করা হবে কি না, কিংবা তারপর তাকে বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে আনা হবে কি নাতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই বিষয়ে বনকর্তারা নির্দিষ্ট কোনও উত্তর দেননি। বক্সা টাইগার রিজার্ভের এফডি কুমার বিমল বলেন, তঅসমে দল রয়েছে। বাঘিনির উপর নজর রাখা হচ্ছে।দ প্রসঙ্গত মুখ খুললেন বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। তাঁর দাবি, বাঘিনি বক্সা ছেড়ে চলে গিয়েছেএমনটা বলা ঠিক নয়। নিজের এলাকা চিনে নিতে আপাতত রাইমনা জঙ্গলে গিয়েছে সে। এলাকা বুঝে নেওয়ার পর বাঘিনি আবার বক্সার জঙ্গলে ফিরে আসবে বলেই আশাবাদী বনমন্ত্রী।
তাই এখনই তার গতিবিধিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না বন দফতর। বরং বাঘিনিকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আরও তিন মাস সময় দিতে চায় তারা।বাঘিনিটির গতিবিধি প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী মনোজ বলেন, তবাঘিনি বক্সার জঙ্গল ছেড়ে চলে গিয়েছেএ কথা সঠিক নয়। আমরা বনকে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মধ্যে ভাগ করেছি, বাঘেরা করেনি। তাই জঙ্গলের স্বাভাবিক গতিপথ ধরেই বক্সা থেকে বাঘিনিটি রাইমোনা জঙ্গলে গিয়েছে। তাই সে বক্সা ছেড়ে চলে গিয়েছেএমনটা ভাবা ঠিক নয়। আমাদের ধারণা, বাঘিনিটি নিজের এলাকা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে তাকে মাস তিনেক সময় দিতেই হবে। সে যখনই নিজের এলাকা বুঝে নেবে, তখনই আবার বক্সার জঙ্গলে ফিরে আসবে। বাঘিনিটি সঙ্গীর সন্ধানে অন্য জঙ্গলে চলে গিয়েছে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা-ও মানতে নারাজ বনমন্ত্রী। তাঁর কথায়, তবাঘিনিটি সঙ্গীর সন্ধানে অন্য জঙ্গলে গিয়েছে, যাঁরা এমনটা বলছেন, তাঁদের ধারণা সঠিক বলে মনে হয় না। রাইমোনা জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা বেশি হতে পারে, কিন্তু সেটাই বাঘিনিটির এলাকা বদলের একমাত্র কারণ হতে পারে না। দবনমন্ত্রীর বক্তব্য, বক্সায় আরও বাঘ ছাড়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। তবে তার আগে বাঘিনিটিকে জঙ্গলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় দিতে চায় বন দফতর। আপাতত আগামী তিন মাস তার গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হবে। বাঘিনিটি স্বাভাবিক ভাবে নিজের এলাকা বুঝে নিয়ে বক্সায় ফিরে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর বন আধিকারিকদের। উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে তিন বছর বয়সি ওই বাঘিনিকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে এনে ছাড়া হয়। বক্সায় বাঘের পরিবারের স্থায়ী বসবাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্সার জঙ্গলে বাঘিনিটিকে ছাড়েন.

Scroll to Top