কোজাগরী লক্ষী পূজোয় উত্তম কুমারের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী

৩৬৫ দিন। কোজাগরি লক্ষ্মীপূজো উপলক্ষে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বিজয়ী হয়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজোতে আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‌সুদীপ এবং তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এদিন পদ্মফুলের ডালি ও মিষ্টি হাতে সুদীপের বাড়ির পুজোয় যোগ দেন তিনি।
পুজো দেখার পাশাপাশি এদিন প্রসাদও গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্তমানে তিনি এনডিএ জোটের শরিক। শুভেন্দু অধিকারী একে সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, একজন প্রবীণ এনডিএ সাংসদ হিসেবেই তিনি এই নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসেছেন এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজোয় যাওয়া নিয়ে কোন বিতর্কের অবকাশ নেই বলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আসার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করে শুভেন্দু জানান, সাংসদ তাঁকে প্রায় এক মাস আগেই হোয়াটসঅ্যাপে এই পুজোর সশ্রদ্ধ আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং গতকালও মেসেজ পাঠিয়ে বিষয়টি মনে করিয়ে দেন। সেই আন্তরিক ডাকে সাড়া দেওয়া প্রসঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের স্বার্থে আজ এনডিএ জোটের অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের সর্বভারতীয় নেতা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যাঁকে ডেকে একসঙ্গে প্রাতরাশ সারতে পারেন, তাঁর বাড়ির লক্ষ্মীপুজোর আমন্ত্রণ রক্ষা করার মধ্যে কোনওরকম অসংগতি বা গরমিল থাকতে পারে না।
সুদীপের বাড়ির পূজোতে আমন্ত্রণ রক্ষা করার পরে মুখ্যমন্ত্রী যান ভবানীপুর এলাকায় উত্তম কুমারের বাসভবনের লক্ষ্মীপুজোয়। লক্ষ্মীপূজায় মা লক্ষ্মীর কাছে কি চেয়েছেন সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা সমৃদ্ধশালী হোক। বাংলায় আরও অনেক শিল্প আসুক। ব্যবসায় উন্নতি হোক, যুবসমাজের জন্য কর্মক্ষেত্র প্রসারিত হোক, কৃষকভাইদের আরও ভালো ফসল ফলুক। আমরা যে সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছি সেটাই হবে। এই সোনার বাংলার গ্যারেন্টার প্রধানমন্ত্রী। আমরি দলগতভাবে তাঁর নির্দেশিকা মেনে কাজ করছি। নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে, আইন কার্যকর করতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এছাড়াও নেশামুক্ত রাজ্য গড়ৃতে হবে। আমার ধারণা, নেশাগ্রস্থ অবস্থাতেই বিকৃত মানসিকতার জন্ম হয়। আরও একটা কথা বলতে চাই, অনূর্ধ্ব ১৮ বছরে বিয়ে দেবেন না। সব দিদি লাখপতি দিদি হোক।
পূজোর ভোগ প্রসাদ খাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খিচুড়িটা এখনও খাইনি। ওটা নিজের বাড়ির জন্য তুলে রেখেছি। আমার বাড়িতেও পুজো হয়। বাড়ি গিয়ে খিচুড়ি ভোগ খাব।

Scroll to Top