‘আরশোলা, দিমাগি নকশাল সব করোনা ভাইরাস’- মুখ্যমন্ত্রী

৩৬৫ দিন। ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করার জন্য প্রত্যেক বছর তিনদিন করে অন্তত বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা তাৎক্ষণিক বক্তৃতা এগুলোও কালচারাল ইভেন্টের মধ্যে আনতে হবে। তাহলেই এই আরশোলা, ছারপোকা, দিমাগি নকশাল, টুকরে টুকরে গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি- এইসব ভাইরাস যে করোনা ভাইরাসের মতো চেষ্টা করছে, এদেরকে তাহলে আর হিট লাগত না স্প্রে করার জন্য। এভাবেই আজ লক্ষ্মীপুজোর দিন পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে দাঁড়িয়ে ককরোচ জনতা পার্টি ও দিমাগী নকশালদের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের একেবারে স্কুল স্তর থেকেই রাষ্ট্রবাদী চিন্তা ধারায় উদ্বুদ্ধ করে তোলার জন্য সমাধান সূত্র বাতলে দিলেন তিনি।
আজ রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে চোরবাগানে মৃত কল্পনা জানার বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা থেকে সিজেপি আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।
রাষ্ট্রবিরোধী কোনও লেখা বরদাস্ত নয়
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথম দুর্গা পুজোয় মন্ডপের পাশে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির বইয়ের স্টল দেওয়া নিয়ে এবারে বিতর্ক হয়েছে বিস্তর। একাধিক জায়গায় বামেদের বুকস্টলে হামলা হয়, চলে ভাঙচুর, এমনকি আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিজেপি-র দিকে আঙুল তোলেন বামেরা। সেই আবহেই শুভেন্দুর ঘোষণা, পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী বা সনাতন বিরোধী কোনও লেখা বরদাস্ত করা হবে না। শুভেন্দু বলেন, মানুষের লেখা, ইত্যাদি তার নিজস্ব অভিব্যক্তির উপর নির্ভর করে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বা সনাতন বিরোধী, কোনও ধর্মকে আঘাত করে লেখা আমরা করতে দেব না। স্টল খাটিয়ে যেটা করার চেষ্টা হয়েছিল, মানুষ সেটাকে প্রতিহত করেছে।
একযোগে আক্রমণ সিপিএম তৃণমূলকে
বিগত ৪৯ বছরে প্রথমে সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসনকাল এবং তারপরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের শাসনকালে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে গেছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩৪ বছরের নাস্তিক ও ১৫ বছরের জামাতিরা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, এনসিসি তুলে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনসিসি কেউ তুলে দেয়? মা-কে আম্মা এইসব শিখিয়েছে। ফুফু, রংধনু এইসব কী? সব পরিবর্তন করার দরকার আছে। পড়ুয়াদের রাষ্ট্রবাদী করার জন্য স্কুল স্তরে শিক্ষার বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বলেন, বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তর থেকে তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার থেকে শুরু করে মৃদঙ্গ-খঞ্জনি – এই সাংস্কৃতিক প্রতিভাও প্রয়োজন। ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করানোর জন্য প্রত্যেক বছর তিনদিন করে অন্তত বিতর্ক-কুইজ-তাৎক্ষণিক বক্তৃতা এগুলো কালচারাল ইভেন্টের মধ্যে থাকা দরকার
স্কুলে পাশ ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার সওয়াল
স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা, পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার পক্ষেই মত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বারে বারে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি নেতারা বিগত সিপিএম সরকার এবং তৃণমূল সরকারের আমলে পাশ ফেল প্রথা তুলে দেওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্যের সরকার গঠন করলে পাস ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হবে। পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়া আনার বিষয়ে আজ প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেবাস কমিটির সুপারিশ আমরা মানব। এনইপি আছে। আমার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। আমার সংশ্লিষ্ট দফতরের মধ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও বিশিষ্ট মানুষ, শিক্ষিত মানুষ। শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই শিক্ষা দফতরে রয়েছেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন। ব্যক্তিগত মতামত জানাতে গিয়ে স্কুলে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা, পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এগুলো ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চার করা, এছাড়া ব্রতচারী, এনএসএস, প্রত্যেকটা স্কুলে এনসিসি, এগুলো ফিরিয়ে আনা দরকার।

Scroll to Top