৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যেই। তবে বিরোধীদের এই অভিযোগ ওঠার পরেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারে বারে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এমন কোন ঘটনা নাকি ঘটেনি। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যদি সত্যিই ২ নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত জ্ঞানেশ কুমার একা নিয়ে থাকেন তাহলে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার কেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কোন অভিযোগ জানাননি। এবারে তথ্য জানার অধিকার বা আরটিআই আবেদনের ভিত্তিতে পাওয়া জবাব প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। জানা গিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা একটি আরটিআই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৯ অক্টোবর এই জবাব দেওয়া হয়েছে। আরটিআই-এর সেই উত্তরে নিশ্চিত করা হয়েছে যে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীর লেখা ওই দুটি চিঠিই গত ২৯ জুলাই ক্যাবিনেট সচিবের দফতরে পৌঁছয়।
জানা গিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাজ নিয়ে ক্যাবিনেট সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের কাজ যে নিয়ম বহির্ভূত সেই দাবিও করেছিলেন তাঁরা বলে প্রকাশ্যে এসেছে খবর। এবার আরটিআই-এর মাধ্যমে এই তথ্যের সত্যতা সামনে এসেছে। আরটিআই এর জবাবের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, ঠিক কী অভিযোগ জানানো হয়েছিল দুই কমিশনারের দেওয়া চিঠিতে। কেন ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না তাও সামনে এসেছে। সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর ওই চিঠির প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ করতে চায়নি ক্যাবিনেট সচিবালয়। তথ্যের অধিকার আইনে করা প্রশ্নের জবাবে এই তথ্যই জানা গিয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই এবং সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দু-র প্রতিবেদনে আরটিআই’তে করা প্রশ্নের জবাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার গত ২৯ জুলাই এই বিষয়ে পৃথকভাবে চিঠি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথনকে। কিন্তু সেই চিঠি নিয়ে সমাজকর্মী কমোডোর লোকেশ কে বাত্রার প্রশ্নের জবাবে ক্যাবিনেট সচিবালয় জানিয়েছে, আরটিআই আবেদনের মাধ্যমে জমা পড়া অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হলেও সেটি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ওই পরিস্থিতিতে কোনও পদক্ষেপ করা বা নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করা যথাযথ হতো না বলে আরটিআই তথ্যে দাবি করা হয়েছে।
মনীশ গর্গের বিরুদ্ধেও চিঠি
তবে শুধুমাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীভাবে একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ নয়, সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার মনীশ গর্গের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দুটি পৃথক চিঠি দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। জোশীর এ-ও অভিযোগ যে, জরুরি ফাইল চেয়ে পাঠালেও কমিশনের প্রশাসনিক বিভাগ তাঁকে তা দেয়নি।
পিটিআই-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার মনীশ গর্গ নাকি ডিরেক্টর জেনারেল এবং সমমর্যাদার আধিকারিকদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিয়েছিলেন। এই বিষয়ে ক্যাবিনেট সচিবালয় জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনাররা ব্যক্তিগত উদ্যোগে চিঠি পাঠিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হলেও সমগ্র নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আরটিআই তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাবিনেট সচিবালয় চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রধান ব্যক্তিগত সচিবের কাছে চিঠির প্রতিলিপিও পাঠিয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই চিঠিকে বিবেচনায় রাখার কথা বলেছে ক্যাবিনেট সচিবালয়।
যাবতীয় নথি প্রকাশ্যে আনার দাবি
সম্প্রতি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একা নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি আরটিআই আবেদনের জবাবে যেভাবে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তথ্য সামনে এসেছে তার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের বিগত এক বছরের যাবতীয় নথিক প্রকাশ্যে আনার দাবি তুলেছেন দেশের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা দাবি করেছেন, দুই নির্বাচন কমিশনার তাঁদের অধস্তন এক আধিকারিকের কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দিলেন? কী কী অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি কমিশনের অন্দরে যথাযথ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে আনা হোক।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে চিঠি পেয়েও ব্যবস্থা নেয়নি ক্যাবিনেট!
প্রতিবাদ বিরোধীদের
- khabar365din
- October 23, 2026
- 5:01 pm
- No Comments





