ইস্টবেঙ্গল: ৫ (র্যামিরেজ, বিষ্ণু, লোবা ২, জিলিনস্কি)
ইন্টার কাশী: ১ (নুঙ্গা আত্মঘাতী)
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। গোয়ার মাঠে চার্চিল ব্রাদার্সকে চার গোলে পর্যদুস্ত করেছিল ইস্টবেঙ্গল। আর আজকে পুনের মাঠে ইন্টার কাশির বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের জয়ের ব্যবধান ৫-১। অর্থাৎ এবারের ইন্ডিয়ান সুপার লিগে ইস্টবেঙ্গল ঠিক কতটা দাপট দেখাতে চলেছে সেটা বোধহয় প্রথম দুটো ম্যাচ থেকে কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে টুর্নামেন্ট যত এগোবে তত কঠিন দলের সামনে পড়বে লাল হলুদ। সব দল চার্চিল আর কাশি হবে না। তবে ইস্টবেঙ্গলকে এরকম একটা উইনিং মেশিনে পরিণত করার বেশিরভাগ কৃতিত্বটাই অবশ্যই কোচ লোপেজ হাবাসের। ৫-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল আকে লোবা, গোল পেলেন আরেক বিদেশি জিলনস্কিও। সামনে এসিএল ২-এ কঠিন পরীক্ষা। তার আগে পুনের বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামে বড় জয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেবে ইস্টবেঙ্গলকে।
৮ মিনিটে প্রথম গোল র্যামিরেজের। নিঃসন্দেহে কাশীর রক্ষণে বিরাট ভুল ছিল। বক্সের মাথায় ঠিকভাবে ক্লিয়ারেন্স না হলে বিপক্ষ তার সুযোগ নেবেই। তবে র্যামিরেজ যেভাবে আলতো ছোঁয়ায় গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে বল ভাসিয়ে দিলেন, তা প্রশংসাযোগ্য। দ্বিতীয় গোল এল ১৬ মিনিটে। বাঁদিক থেকে বক্সের মধ্যে ঢুকে গোলে শট করেন বিষ্ণু। শটে তেমন জোর ছিল না। তবে কাশীর গোলকিপার আলবিনো গোমস সেটাও ভালোভাবে ধরতে পারলেন না। তাঁর হাতের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়। ৬ মিনিট পর লাল-হলুদ জার্সিতে প্রতীক্ষিত গোলটি পেলেন লোবা। পেনাল্টি থেকে কোনও ভুল করেননি আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার। তবে পেনাল্টি আদায়ের ক্ষেত্রে মূল কৃতিত্ব অবশ্য র্যামিরেজের। বক্সের মধ্যে ঢুকে বিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করান তিনি। তবে মাঝে কিছুটা তাল কাটে লালচুংনুঙ্গার ভুলে। গোটা ম্যাচেই তাঁকে কিছুটা ছন্নছাড়া দেখিয়েছে। ২৮ মিনিটে নুঙ্গার আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় কাশী। যদিও সুখ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৫ মিনিটে বিপিনের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ৪-১ করেন লোবা।নামানো হয় লুকাস জিলিনস্কিকে। ৮১ মিনিটে তিনিও ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে প্রথম গোলের দেখা পেলেন। মহম্মদ রশিদকেও তুলে নেন হাবাস। নাহলে হয়তো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতেন লাল-হলুদের অধিনায়ক। এরপর আবার ওমানে যেতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। তার আগে কাশির বিরুদ্ধে একটা ড্রেস রিহার্সাল হিসেবে বলা যায় আজকের পারফরম্যান্স। নিজেদের চোট আঘাত সামলাতে পারলে এবং কার্ড সমস্যা বেশি না হলে এবারও ভারত সেরা হওয়ার প্রবল দাবিদার লাল হলুদ। সবচেয়ে বড় কথা ইস্টবেঙ্গল দলটা একটা টিম হিসেবে পারফর্ম করছে। বোঝাপড়া দুর্দান্ত। ফিটনেস অনবদ্য। চ্যাম্পিয়নের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামছে প্রত্যেকে। এই তিনটে কম্বিনেশন এই নতুন ইস্টবেঙ্গলের ইউএসপি।




