প্রয়াত মাস্টার ‘স্টোরি টেলার ‘ জেফ্রি আর্চার

৩৬৫ দিন। তাকে বলা হত মাস্টার স্টোরিটেলার সোমবার ৮৬ বছর বয়সে থামল সেই গল্পের জাদুকর জেফ্রি আর্চার-র পথ চলা। সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ব্রিটিশ সাহিত্যিক। ফেন্সিংয়ে অলিম্পিক গোল্ড মেডেল থেকে রাজনীতির ময়দান, ছাত্র বিপ্লব থেকে কার র‍্যলিতে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন,বর্ণময় ছিলেন জেফ্রি। গত পাঁচ দশকে বিশ্বজুড়ে জেফ্রি আর্চার-এর বই ৪৯টি ভাষায় ও ১১৯টি দেশে ৩০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। তাঁর লেখা বই  কেবল হট কেকের মত বিক্রিই হত না, তার ক্রাইম থ্রিলার হলিউড সিনেমায় এক নতুন ঘরানার সৃষ্টি করেছিল। জেমস বন্ডের মত আজব ফ্যান্টাসির অতিমানবীয়তা অতিক্রম করে পৃথিবী জোড়া অপরাধ গবেষণার সূত্র খুঁজেছেন তার সাহিত্যে।
ব্রিটেনের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক মহলে তাঁকে আধুনিক সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখকের মর্যাদা দেয়।১৯৭৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস নট আ পেনি মোর, নট আ পেনি লেসএবং ১৯৭৯ সালের কেন অ্যান্ড অ্যাবেল, ক্লিফটন ক্রনিকলস বিশ্ব জোড়া খ্যাতি এনে দেয়। জেফ্রি আর্চারের লেখায় বারে বারে এসেছে তাঁর নিজের শহর সমারসেটের ওয়েলিংটনের ছোঁয়া।মঙ্গলবারই তাঁর লেখা শেষ উপন্যাস অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই, নিজের বাড়িতে লেখালেখি করার মধ্যেই হঠাৎ মৃত্যু হয়েছে জেফ্রি আর্চারের বলে জানিয়েছে তাঁর বইয়ের প্রকাশক হার্পারকলিন্স। তিনি শুধুমাত্র একজন সাহিত্যিক ছিলেন না। রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কনজ়ারভেটিভ সাংসদ ছিলেন জেফ্রি আর্চার। তবে, ২০০১ সালে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেলি স্টারের বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার অপরাধে তাঁর চার বছরের জন্য কারাদণ্ড হয়। ২০০৩ সালে জেল থেকে মুক্তি পান আর্চার। ২০২৪ সালে অবসর নেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ছিলেন হাউস অফ লর্ডস-এর সদস্য।১৯৪০ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর লন্ডনে জন্ম জেফ্রি আর্চারের। তবে তাঁর জন্মের পরেই সমারসেটের ওয়েস্টন-সুপার-মেয়ার-এ চলে যায় তাঁর পরিবার। সেখানেই একটি বাড়ি কিনেছিল তাঁর পরিবার। চলতি বছরে ৬০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন জেফ্রি আর্চার এবং তাঁর স্ত্রী মেরি।১৯৯২ সালে লাইফ পিয়ার উপাধি দেওয়া হয় তাঁকে।

Scroll to Top