৩৬৫ দিন। যন্তরমন্তরের পথে বাধা পেয়ে রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ দেখালেন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশের হাত ছাড়িয়ে ডেয়ার ডেভিল স্টাইলে আকাশবানী ভবনে ঢুকে পড়ছেন রাহুল! মঙ্গলবারের পর বুধবারেও দফা এক দাবি এক জ্ঞানেশ কুয়ারের পদত্যাগ স্লোগানকে সামনে রেখে পথে নামলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্ক, খাড়্গে সহ প্রায় গোটা কংগ্রেস। যোগ দিলেন ডেরেক, মহুয়া সহ ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরাও। তবে নেতৃত্ব দিলেন রাহুল, তবে মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবার আগ্রাসী ভুমিকায় দেখা গেল প্রিয়াঙ্কাকে। যেন মনে হল রাহুল নিজেই প্রিয়াঙ্কাকে এগিয়ে দিয়ে নিজে কিছুটা পেছন থেকে ঘটনাপ্রবাহে নেতৃত্ব দিলেন। যদিও বিজেপি বলছে, কংগ্রেস নাটক করছে। এস আই আর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাইলে আদালতে যাক। রাস্তায় নেমে অশান্তি পাকানো অত্যন্ত মোটা দাগের রাজনীতি।
হোটেলে মিটিং, বাসে যন্তরমন্তর অভিযান
কংগ্রেস সূত্রে খবর মঙ্গলবার রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেস সব ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে যে ভিড় হয়েছিল তাতে উৎসাহিত কংগ্রেস বুধবারেও পুরো শক্তিতে ময়দানে নামায় পরিকল্পনা করে। তার আগে অবশ্য আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে বৈঠকে বসে কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোটের বেশ কয়েকটি দল। দিল্লির জনপথ এলকায় সাগররত্ন রেস্তোরাঁয় সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ সেরে তিনটি লাক্সারি বাসে যন্তরমন্তরের উদ্দেশে রওনা দেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, খাড়্গে, ডেরেক, মহুয়া সহ বিরোধী দলের সাংসদরা। বাস যন্তরমন্তরের কাছাকাছি আসতেই তা আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। তারা জানিয়ে দেয় যন্তরমন্তরে যেহেতু জমায়েতের আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি তাই সেখানে কোনো জমায়েত করা যাবে না। পূর্বের ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে সেখানে। রাহুল প্রিয়াঙ্কাদের বলা হয় বাস যেখানে আটকানো হয়েছে সেখানে একটি জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে চাইলে তারা সেখানে তাদের কর্মসূচি করতে পারেন। যদিও তাতে রাজি হননি তারা। এদিকে ততক্ষণে সেখানে জড়ো হয়ে গিয়েছে কংগ্রেসের ছাত্র যুব সংগঠনের কর্মীরা। বেশকিছু গণ সংগঠনের কর্মীরাও সেখানে চলে আসে। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে প্রবল ধ্বস্তাধ্বস্তি।
রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ প্রিয়াঙ্কার
রাহুল প্রিয়াঙ্কারা বাস থেকে নামতেই তাদের ফের বাসে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের হাত ছাড়িয়ে এক সময় দেখা যায় দুজনেই আকাশবানী ভবনের দিকে যাচ্ছেন। এই সময় পুলিশ প্রিয়াঙ্কাকে আটকালে তিনি রাস্তাতে শুয়ে পড়েন। তাকে ঘিরে থাকে কংগ্রেসের কর্মীরা। পুলিশকে রীতিমত হিমসিম খেতে হয়। প্রিয়াঙ্কাকে বলতে শোনা যায়, ‘ দেখুন কি ভাবে পুলিশ আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। সাংসদরা ভোট চুরির প্রতিবাদে আন্দোলন করবে না!’ প্রিয়াঙ্কা যখন রাস্তায় শুয়ে আন্দোলন করছেন তখন রাহুলকে পুলিশ আকাশবানী ভবনের ভেতর থেকে আটক করে। হুঁশিয়ারির সুরে রাহুলকে এই সময় বলতে শোনা যায়, ‘ যারা ভোট চুরি করেছে তাদের কেউ পার পাবে না। মোদি, শাহ, জ্ঞানেশ সবার বিচার হবে। একজনকেও ছাড়া হবে না।’ পুলিশ রাহুল প্রিয়াঙ্কা দুজনকেই নিউ পুলিশ লাইনে আটক করে নিয়ে যায় পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বলপ্রয়োগ করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলেও সেই প্ররোচনায় কেউ পা দেয়নি। অনেক আন্দোলনকারীদের মারা হয়েছে। আটক এমনকি গ্রেফতার করা হয়েছে।
কমিশনে সময় চায় ইন্ডিয়া
সূত্রের খবর, পথে নেমে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যেমন আন্দোলন চলছে তেমন চলবে তার পাশাপাশি এবার নির্বাচন কমিশনেও আন্দোলনের ঢেউ নিয়ে গিয়ে ফেলতে চাইছে ইন্ডিয়া। বুধবার রেস্তোরাঁর বৈঠকে ঠিক হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ও দুই নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও জোশীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়ে চিঠি দেবেন ইন্ডিয়আ জোটের সাংসদরা। সেই চিঠিতে কী লেখা হবে তা এদিনের বৈঠকে মোটামুটি ঠিকও হয়ে গিয়েছে। সম্ভবত ১০ তারিখ শনিবারের মধ্যে সেই চিঠি পৌঁছেও যাবে। কমিশনাররা দেখা করার অনুমতি দিলে সাংসদরা গিয়ে তাদের হাতে এস আই আরের নামে কী ভাবে কারচুপি করা হয়েছে তার যাবতীয় তথ্য প্রমাণ তুলে দিয়ে আসবেন। এর সঙ্গেই কেন জ্ঞানেশের পদত্যাগ করার দাবি তোলা হচ্ছে তাও স্পষ্ট করে জানানো হবে। বিজেপি যদিও এদিন-ও জ্ঞানেশ কুমারের হয়েই ব্যাট ধরেছে। দলের তরফে রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, কংগ্রেস সহ বিরোধীরা ১৩ কোটি নাম বাদ গিয়েছে বলে সোরগোল করছে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অথচ তারা বলছে না কত লাখ মানুষকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি বা কত ডুপ্লিকেট ভোটার ছিল, সেই তথ্য গুলোও তো দিতে হবে! জ্ঞানেশের পক্ষ নিয়ে রবিশঙ্করের প্রশ্ন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনার কী কোটি কোটি ভুয়ো ভোটার রয়েছে জেনেও চুপ করে চোখ বন্ধ করে বসে থাকতেন!
নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায় ‘ইন্ডিয়া’
- khabar365din
- October 8, 2026
- 1:37 pm
- No Comments




