মোহনবাগান – ১
ইস্টবেঙ্গল – ০
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। পৃথিবীর সর্বকালের সেরা বক্সার মহম্মদ আলিকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল আপনার মতে চ্যাম্পিয়ন প্লেয়ারের সংজ্ঞা কি? আলি বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন সেই যে দাপটের সঙ্গে জেতে না, যে একটা প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখে আমি উঠে দাঁড়াব, প্রতিপক্ষকে একটা নক আউট পাঞ্চে শেষ করে দেব। বৃহস্পতিবার মোহনবাগানের এই জয়টা দেখে আলির সেই অমর উক্তিটা মনে পড়ে যেতে বাধ্য। দেড় মাস আগে যে দলটা ডুরান্ড কাপ ফাইনালে এই ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই যুবভারতীতেই চার গোল খেয়ে রক্তাক্ত হয়েছিল, আজ শিল্ড ফাইনালে সেই দলটাই ৯০ মিনিটের মধ্যে ৭০ মিনিট দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠ ছাড়ল। মাঝের ৪৫ দিনে মোহনবাগান কোচ থেকে ফুটবলার এবং কর্মকর্তাদের প্রচুর সমালোচনা হজম করতে হয়েছিল। সেটাই স্বাভাবিক চার গোল খাওয়ার পর। কিন্তু আজ যুবভারতীতে প্যানোস দেখিয়ে দিলেন তিনি থাকতে এসেছেন। আজ গ্রিক কোচের বুদ্ধি,
ট্যাকটিক্স এবং গেমপ্ল্যানের কাছে মাত খেলেন লোপেজ হাবাস এবং তার দল। এমনিতেই ফুটবল বড় মহান অনিশ্চয়তার খেলা। তবে মজার খেলাও বটে। আজ যে রাজা, কাল সে ফকির হতেই পারে। আজকের হারানো সম্মান কালকে আবার ফিরে পাওয়া যায়। তবে ফিরে পেতে গেলে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং হার না মানা মনোভাব। লক্ষ্মী বারের যুবভারতীতে এই তিনটে জিনিসের উপর দাঁড়িয়েই
কামব্যাক করল মোহনবাগান। এদিন শুরু থেকেই দু’দলের খেলাতেই আগ্রাসী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। ৬ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। রামিরেজের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন এডমুন্ড। ডান দিকে বল রাখলেও তাঁর শট আটকে দেন বিশাল কাইথ। ১৫ মিনিটে পালটা আক্রমণ মোহনবাগানের। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে উঠে ইস্টবেঙ্গলের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান লি এরউইন। তবে তাঁর শটে জোর না থাকায় সহজেই তা তালুবন্দি করেন ফুরবা লাচেনপা। ৩৬ মিনিটে ফের দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা মোহনবাগানের। রশিদের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ছাংতেকে দেন জেলকোভিচ। মাঝমাঠের কাছাকাছি জায়গা থেকে ছাংতের দূরপাল্লার জোরালো শট অবশ্য দুর্দান্ত দক্ষতায় বিপদমুক্ত করেন লাচেনপা। এক মিনিট পরেই ফের ইস্টবেঙ্গল গোলকিপারের পরীক্ষা নেন সাহাল। বক্সের ডান দিক থেকে তাঁর নিচু হাফ-ভলি বাঁ দিকের পোস্ট লক্ষ্য করে এগোলেও দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার।৪৫ মিনিটে গোল করে সবুজ-মেরুনকে এগিয়ে দেন জেলকোভিচ। বক্সের বাইরে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের ভুল থেকে বল পেয়ে যান সাহাল। তিনি চিপ করে বল তুলে দেন সমিরের উদ্দেশে। সুযোগ বুঝে বল নিয়ে সোজা বক্সে ঢুকে পড়েন বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ফুটবলার। ঠান্ডা মাথায় বল জড়িয়ে দেন জালে। ৫৫ মিনিটে রামিরেজের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এডমুন্ড। ৫৮ মিনিটে পিভি বিষ্ণু ও আকে লোবাকে নামান হাবাস। অন্যদিকে ৬৬ মিনিটে সাহালের বদলে মনবীরকে নামান পানোস। তার আগে অবশ্য সন্দীপ মান্ডির সঙ্গে মাথা ফাটে দ্রাজিচের। তবু লড়াই ছেড়ে যাননি। আজ দুর্ধর্ষ খেলেছেন সার্বিয়ার এই ফুটবলার। সামির গোল করার পাশাপাশি পুরো ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়েছেন। মিগুয়েল, অপুইয়া,
শুভাশিসদের ব্যবহার করাই হল না। ইস্টবেঙ্গলও আনোয়ারকে খেলায়নি। ৭০ মিনিটে জোড়া বদল করেন পানোস। লি এরউইন ও ছাংতের জায়গায় নামেন মনবীর ও অনিরুদ্ধ থাপা। ৭১ মিনিটে এডমুন্ডকে তুলে ডেভিডকে নামান হাবাস। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের খেলায় সেই তাগিদ দেখা গেল না। ফ্রিকিক পেয়েও রশিদের শট আটকে গেল মানবপ্রাচীরে। লোবা বারবার বল হারালেন, জিওলিনস্কির হেড ছাড়া উল্লেখযোগ্য সুযোগও তৈরি করতে পারল না লাল-হলুদ। ক্লান্ত, ছন্দহীন ফুটবলে ম্যাচের শেষটাও হয়ে উঠল বিবর্ণ। শেষ পর্যন্ত ২০২৫-এর পর ২০২৬-এও আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলল মোহনবাগান। এই নিয়ে ২২ বার শিল্ড জিতল সবুজ-মেরুন।




