৩৬৫ দিন। দু’বছর আগে এক শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাস্টিস ফর সারভাইভারস’ শিরোনামে বড় ধরনের এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে, যার প্রচারপত্র ও পোস্টারে এখন পুরো ক্যাম্পাস ছেয়ে গেছে। যদিও এ নিয়ে অধ্যাপক মহলের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় আইন ভেঙ্গে প্রশাসন ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকিয়ে দেয়। তারপরে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, ছাত্রদের পিছমোড়া করে বেঁধে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। এর প্রতিবাদে প্রাক্তন ছাত্র অধ্যাপক-সহ সবাই এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে রিসার্চ করে নোবেল পাওয়া একাধিক গবেষক এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে বলেছেন, ট্রাম্প বিশ্ববিদ্যালয় আইন ভেঙে ছাত্রদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছেন, কারণ তাদের পলিটিকাল ফান্ডিং বাঁচাতে হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিতে পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৪ সালে একটি ছাত্র সংগঠনের কার্যালয়ে মাদক খাইয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী, যিনি ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে নামে পরিচিত। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ২০ বছর বয়সী এক ছাত্রী চি ফাই ফ্র্যাট্যারনিটি হাউজে যান। অভিযোগ উঠে, সেখানে তাকে কেটামিন সেবনে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে দলবদ্ধভাবে নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার এক সপ্তাহ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই শিক্ষার্থী। সঙ্গে জমা দেন ডাক্তারি রিপোর্ট। কিন্তু অভিযোগ উঠে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস জানায় এই প্রমাণ যথেষ্ট নয়। উপযুক্ত প্রমাণ না পাওয়ার অজুহাতে কোনও ফৌজদারি মামলা দায়ের করেনি। জানা যায়, অভিযুক্তদের পরিবারের উচ্চ প্রশাসনিক স্তরে বিপুল ক্ষমতা,নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ টাকাও তারা ঢেলেছে। ফলে কোনও এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক্ষ, কোনওরকম কড়া ব্যবস্থা নেয়নি। মেয়েটিকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। একইসঙ্গে যাতে সে বিশ্ববিদ্যালয় না এসেই বাড়িতে বসে তার ডিগ্রী হাতে হাতে পেয়ে যায় তার ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি কড়া শাস্তির বদলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কেবল প্রবন্ধ লেখার শাস্তি দিয়ে পার পাইয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের যথাযথ শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার পর ‘টাইটেল নাইন’ আইনের আওতায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত হয়েছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে আইনি কারণে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এতেই ক্ষোভ থামেনি। ৫ অক্টোবর ‘নিপীড়িতদের জন্য ন্যায়বিচার’ দাবিতে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার, নীতিমালা বদল ও স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছেন। এক হাজার ৩০০-র বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।এর মধ্যে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল মামলাটির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমসকে বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ করেছেন। নতুন করে ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে।




