যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বামেদের কনভেনশনে এবিভিপির কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলেন নেহা বোরা

৩৬৫ দিন। দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর রবিবার রাতে মুক্তি পেয়েছেন ছাত্র সংগঠন আইসা-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা। সোমবার বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা কনভেনশনে যোগ দিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন নেহা। সম্প্রতি যেভাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, এসআরএফটিআই তে এবিভিপি যে কায়দায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তার প্রতিবাদ করেছেন আইসা নেত্রী। এদিন কনভেনশন ঘিরে ভিড় বাড়তে থাকায় মাঝপথে অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করা হয়।  ‘জেন জি আন্দোলন: প্রজন্ম ও প্রতিরোধের ঐক্য’ বিষয়কে সামনে রেখে এই কনভেনশনের আয়োজন করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। এসআইআর এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নও আলোচনায় রাখা হয়। নেহা বোরা বলেন, “ওরা মনে করে যন্তর মন্তরে, যাদবপুরে, এসআরএফটিআই তে আমাদের ছাত্রদের মেরে মাথা নুইয়ে দেবে। কিন্তু ওরা সেটা পারবে না। যখনই ফ্যাসিস্ট সরকার সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করেছে, তখনই সেই সরকারকে বামপন্থীরা উৎখাত করেছে।
আপনারা ধোঁকা দিয়ে এসআইআর করে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। প্রত্যেকদিন গণতন্ত্রের অধিকার কে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা দেখতে পেয়েছি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ছাত্রদের খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসআরএফটিআই -এ আরএসএসের কোন প্রোগ্রাম হওয়ার দরকার কী? এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রোগ্রাম হবে। বাংলা গোটা দেশকে পথ দেখিয়ে এসেছে। আরএসএস কিংবা ভাজপার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। তারা শুধু গুন্ডামি করতে চায়। এসআইআর করে বাংলার ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যে ম্যান্ডেট ওরা পেয়েছে সেটা মিথ্যে ছাড়া আর কিছুই নয়। বামপন্থার উপর নির্ভর করেই প্রগ্রেসিভ বাংলা গড়ে উঠবে আগামী দিনে। দিল্লিতে রক্ত বইলে কলকাতার কষ্ট হয়। কলকাতায় রক্ত বইলে দিল্লিও প্রতিবাদ করবে। এভাবেই এক নতুন ভারত বর্ষ, এক নতুন বাংলার জন্ম হবে।” নেহার পাশাপাশি এসআরএফটিআই-এর বামপন্থী ছাত্রনেতা শুভম বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসে কোন রঙের রাজনীতি হয় না। ফ্যাসিস্টরা যে কাউকেই আক্রমণ করতে পারে। আমরা সব সময় ওদের গুন্ডামির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠব।” সিজেপি পশ্চিমবঙ্গের কনভেনার দেদীপ্য গাঙ্গুলী বলেন, “সৌরভ, দীপকে-কে ওরা গ্রেফতার করতে পারে। কিন্তু যতই ওরা গ্রেফতার করুক আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসবো না। আমরা এই সিস্টেম ঠিক করতে এসেছি, একে ঠিক করেই ছাড়ব।” পাশাপাশি এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের দেশের সংবিধান রক্ষা করবে ছাত্রছাত্রীরা। দিল্লির যন্তর মন্তর বলুন কিংবা কলকাতার রাস্তা বলুন, ছাত্রছাত্রীরা প্রমাণ করে দিয়েছে পুলিশের লাঠি ভোঁতা করে দেওয়া যায়।”
বহিরাগত ইস্যুতে কর্তৃপক্ষকে চিঠি এবিভিপির
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নেহা বোরার আসা নিয়ে বহিরাগত প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রতিবাদ চিঠি দিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট প্রেসিডেন্ট নিখিল দাস জানান, ক্যাম্পাসে বহিরাগত কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এসে সভা করা যায় না। এই কাজ করে হাই কোর্টের নিয়ম লঙ্ঘন করছে বাম সংগঠনগুলি। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তারা এই কনভেনশনকে ‘প্ররোচনার ফাঁদ’ বলেও মন্তব্য করেছেন নিখিল দাস। তিনি বলেন, “আমরা মনে করছি, এটি প্ররোচনার ফাঁদ। বাংলাকে অশান্ত করার চক্রান্ত। যাদবপুর থেকে এই পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।”

Scroll to Top